• রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৪৩ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
সিলেটের নতুন পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীমের দায়িত্ব গ্রহণ অবৈধ গ্যাস ক্রস-রিফিলের বলি ইমন: তানোর উপজেলায় জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণহত্যার বিচারের দাবিতে জামায়াতের গণমিছিল ও পথসভা জুলাই সনদ ও গণভোট কার্যকরের দাবিতে বুড়িচংয়ে গণমিছিল ও পথসভা অনুষ্ঠিত দৃষ্টি নন্দন খাল পুনঃখনন শেষে ১৪ লাখ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিলেন ভান্ডারিয়ার ইউএনও হাসিবুল হাসান নিউইয়র্কে আন্তর্জাতিক সম্প্রীতি বিষয়ক আলোচনা সভা: শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে ইসলামের মানবিক শিক্ষা তুলে ধরলেন শাহসুফি ড. সাইফুদ্দীন আহমদ সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ২১ নং ওয়ার্ডে শুরু হচ্ছে বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতার অনলাইন আবেদন সাবেক প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদকে আদালতে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ মাদক, সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধে ইসলামনগরে মতবিনিময় সভা ১ আগস্ট থেকে সব বাসে জিপিএস বাধ্যতামূলক

সৈয়্যদ সাইফুদ্দিন মাইজভান্ডারি কে ?

Reporter Name / ৩০২ Time View
Update : বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

মোঃ শাহজাহান বাশার

বাংলাদেশে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত যখন দীর্ঘদিন ধরে খণ্ড-বিভক্ত, মতপার্থক্য ও নেতৃত্ব সংকটে জর্জরিত—ঠিক সেই ক্রান্তিলগ্নে সুন্নিয়তের ঐক্যের প্রতীক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন সৈয়্যদ সাইফুদ্দিন আহমদ মাইজভান্ডারি। সুন্নি আকিদা, দরবার-মাজার ও আহলে সুন্নাতের অস্তিত্ব রক্ষায় তাঁর সময়োপযোগী নেতৃত্ব ও ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের কারণে তিনি আজ সর্বমহলে “আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের পেশওয়া” হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের ইতিহাসে ‘পেশওয়া’ সেই মহান ব্যক্তিত্ব, যিনি যুগের চাহিদা অনুধাবন করে বাতিল ও উগ্র মতবাদের আগ্রাসন থেকে সুন্নিয়তকে রক্ষা করেন এবং সুন্নিদের সংগঠিত রাখেন। উপমহাদেশে এই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন আল্লামা সৈয়্যদ আহমদ সিরিকোটি (রহ.)—যিনি যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি মারকায জামিয়া ষোলশহর, যার মাধ্যমে হাজারো আলেম তৈরি হয়ে সুন্নিয়তকে শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড় করিয়েছেন।

ঠিক তেমনি বর্তমান সময়ে সৈয়্যদ সাইফুদ্দিন আহমদ মাইজভান্ডারি সুন্নিয়তের জন্য পালন করছেন ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী ভূমিকা।

গত ৫ আগস্ট ২০২৪-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তথাকথিত ‘তৌহিদি জনতা’র নামে উগ্রবাদী জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো সুন্নিদের শতশত মাজার ও দরবারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। শত বছরের ইতিহাসে এত ব্যাপকভাবে মাজার ধ্বংসের নজির নেই। দরবারের সম্পদ, ফকির-মিসকিনের আহার্য, গবাদিপশুসহ কোটি কোটি টাকার সম্পদ লুণ্ঠিত ও ধ্বংস করা হয়।

এই পরিস্থিতিতে সুন্নিদের অভ্যন্তরীণ বিভক্তি ও দলাদলি উগ্রবাদীদের আরও উৎসাহিত করে। এমনকি ঢাকায় সুন্নিদের একটি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি আয়োজন করতেও ১০ এপ্রিল প্রশাসনিক টালবাহানার মুখে পড়ে।

এমন ভয়াবহ বাস্তবতায় এগিয়ে আসেন সৈয়্যদ সাইফুদ্দিন আহমদ মাইজভান্ডারি। তিনি দেশের বিভক্ত সুন্নি নেতৃত্ব, পীর-মাশায়েখ, দরবারের সাজ্জাদানশীন ও আলেম-উলামাদের এক টেবিলে বসাতে সক্ষম হন। আউলাদে রাসূল (সা.) ও আউলাদে মাইজভান্ডারি হওয়ার কারণে তিনি সর্বজন শ্রদ্ধেয়—এই তাজিম ও গ্রহণযোগ্যতাই ঐক্যের পথ সুগম করে।

নিরলস আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে তাঁর নেতৃত্বে গঠিত হয় ঐক্যবদ্ধ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত।
২৩ আগস্ট ২০২৫, তাঁর সভাপতিত্বে সব বিভেদ, ভুল বোঝাবুঝি, মসলকগত পার্থক্য, পীর ও তরিকার ভিন্নতা পেছনে রেখে “মদিনাওয়ালার ইসলাম”-এর পরিচয়ে সুন্নিরা ঐক্যবদ্ধভাবে আত্মপ্রকাশ করে।

এই বৃহত্তর সুন্নি ঐক্যের ফলে আজ বাতিল ফিরকারা সুন্নিয়তের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কটুক্তি করতে ভয় পাচ্ছে। নবিজি (সা.)-এর শানে অবমাননা, আল্লাহর ওলিদের বিরুদ্ধে বেয়াদবি এবং মাজারে হামলার সাহস হারিয়েছে উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো। আকিদা নিয়ে কটুক্তির বিরুদ্ধে সুন্নিরা এখন ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামার প্রস্তুতিতে রয়েছে।

ধর্মীয় ঐক্যের পাশাপাশি রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন সৈয়্যদ সাইফুদ্দিন আহমদ মাইজভান্ডারি। তিনি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি)-এর প্রধান নেতা। দীর্ঘদিন ধরে সুন্নি রাজনীতির দুই ধারা—ইসলামি ফ্রন্ট ও ইসলামি ফ্রন্ট বাংলাদেশ—বিভক্ত থাকায় সুন্নি নেতৃত্ব দুর্বল হয়ে পড়ে।

এই বাস্তবতা অনুধাবন করে তিনি সমালোচনার ঊর্ধ্বে উঠে বৃহত্তর সুন্নি রাজনৈতিক ঐক্যের উদ্যোগ নেন। তাঁর নেতৃত্বে বিএসপি, ইসলামি ফ্রন্ট ও ইসলামি ফ্রন্ট বাংলাদেশ একত্রিত হয়ে গঠন করে বৃহত্তর সুন্নি জোট—যা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের উন্নয়ন ও সুন্নি প্রতিনিধিত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে।

সৈয়্যদ সাইফুদ্দিন আহমদ মাইজভান্ডারি চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মাইজভান্ডার শরীফের সাজ্জাদানশীন ও আউলাদ। তিনি ওয়ার্ল্ড সুফিজ-এর প্রেসিডেন্ট, আন্তর্জাতিক সুফি সম্মেলনে বাংলাদেশের নিযুক্ত ইমাম এবং সাবেক ইমামে আহলে সুন্নাত আল্লামা মঈনউদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারির সুযোগ্য সন্তান।

সুন্নিয়তের এই দুঃসময়ে যিনি ঐক্যের মাধ্যমে শক্তি ফিরিয়ে এনেছেন, বাতিলের আগ্রাসন রুখে দাঁড়িয়েছেন এবং ধর্মীয় ও রাজনৈতিক—উভয় ক্ষেত্রেই নেতৃত্ব দিয়েছেন, তিনি নিঃসন্দেহে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের পেশওয়া—সৈয়্যদ সাইফুদ্দিন আহমদ মাইজভান্ডারি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd