হামিদুর রহমান,তানোর রাজশাহী প্রতিনিধি :
জুলাই গণঅভ্যুত্থান উদযাপন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় কার্যকর এবং গণহত্যার বিচারের দাবিতে রাজশাহীর তানোরে গণমিছিল ও পথসভা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তানোর উপজেলা শাখা।
শনিবার (১ আগস্ট) বিকাল ৫টার সময় উপজেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। তাদের হাতে দলীয় ব্যানার, জাতীয় পতাকা এবং বিভিন্ন দাবিসংবলিত ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তানোর উপজেলা নায়েবে আমীর মাওলানা আনিসুর রহমান, উপজেলা আমীর আলমগীর হোসেন, উপজেলা সেক্রেটারি ডি. এম. আক্কাস আলী, তানোর পৌরসভা আমীর মাওলানা মকসেদ আলী, পৌরসভা সেক্রেটারি জুয়েল উদ্দিন, জেলা শিক্ষা বিভাগের সভাপতি ড. ওবায়দুল্লাহ, অ্যাডভোকেট আব্দুল কাদের, তানোর পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থী মাহাবুব চৌধুরী এবং তানোর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার পদপ্রার্থী আফজাল হোসেনসহ উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
গণমিছিলটি তানোর উপজেলা চত্বর থেকে শুরু হয়ে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় নির্ধারিত স্থানে এসে শেষ হয়। মিছিল চলাকালে নেতাকর্মীরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন, জুলাই সনদ কার্যকর, গণভোটের রায়ের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ এবং গণহত্যার বিচার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এতে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে।
পরে অনুষ্ঠিত পথসভায় বক্তারা বলেন, দেশের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচার, সুশাসন, গণতান্ত্রিক অধিকার ও ভোটের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা করে আসছে। জনগণের সেই প্রত্যাশা পূরণে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন এবং জনগণের মতামতের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।
বক্তারা আরও বলেন, গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি জনগণের দেওয়া গণভোটের রায় যথাযথভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি জবাবদিহিমূলক, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান তারা।
তারা দাবি করেন, দেশের মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে সব রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় এবং শেষে দেশ, জাতি ও জনগণের কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।