পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধি:
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া থানা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস.এম. মুজিবুর রহমানকে দুর্নীতি, অনিয়ম, অদক্ষতা, পেশাগত অসদাচরণ, কর্তব্যে অবহেলা ও নৈতিক স্খলনসহ বিভিন্ন অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগগুলো তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ০৫.১০.৭৯১৪.০০৭.২৩.০০৮.২৬-১০৩০ নং স্মারকে জারি করা অফিস আদেশে প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত ও তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হয়। আদেশে স্বাক্ষর করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মো. হাসিবুল হাসান।
অফিস আদেশ সূত্রে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক এস.এম. মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অদক্ষতা, পেশাগত অসদাচরণ, কর্তব্যে অবহেলা, নৈতিক স্খলন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের ২৪ টি অভিযোগ উল্লেখ করে গত ১৩ সেপ্টেম্বর কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। ওই নোটিশের জবাবে তিনি ২৮ মে লিখিত জবাব দেন এবং ব্যক্তিগত শুনানির আবেদন করেন।
পরবর্তীতে ৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত শুনানিতে তিনি উপস্থিত হন। শুনানিতে দাখিল করা তথ্য ও বক্তব্য পর্যালোচনার পর কর্তৃপক্ষ তার জবাব সন্তোষজনক নয় বলে উল্লেখ করে।
অফিস আদেশে আরও বলা হয়, দাখিল করা জবাব ও শুনানি সন্তোষজনক না হওয়ায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, বরিশালের ‘নিম্নমাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা স্তরের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা ২০২৪ এর ৫৩(৩) ও ৫৩(৪) ধারা অনুযায়ী তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই প্রবিধানমালার ৫৩(৭) ও ৫৪(১) ধারা অনুযায়ী তাকে প্রধান শিক্ষক পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সৈয়দ আজমল হোসেনকে। কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন আছিয়া খাতুন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জুলফিকার আলী শেখ এবং ভাণ্ডারিয়া থানা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক প্রতিনিধি আব্দুল আলিম আকন।
প্রবিধানমালার ৫৩(৫) ধারা অনুযায়ী, তদন্ত কমিটিকে এক মাসের মধ্যে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির কাছে বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে প্রধান শিক্ষক অর্ধেক খোরপোষ ভাতা পাবেন। প্রবিধানমালার ৫৪(২) ধারা অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তিনি কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না বলেও অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।