মোঃ শাহজাহান বাশার
কনকনে শীতের মধ্যে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে আলোকিত যুব উন্নয়ন সংস্থা। কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় শীতার্ত অসহায়, হতদরিদ্র ও বয়স্ক মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করেছে সংগঠনটি।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি ২০২৬) বুড়িচং উপজেলার ২ নম্বর বাকশীমূল ইউনিয়নের আনন্দপুর পশ্চিমপাড়া হযরত শাহসূফী ফকির আব্দুস সালাম (রহ.) মাজার, খানকা শরীফ ও জামে মসজিদের সামনে এই কম্বল বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। শীতের তীব্রতা থেকে রক্ষায় অর্ধশতাধিক অসহায় মানুষের হাতে কম্বল তুলে দেওয়া হয়।
আলোকিত যুব উন্নয়ন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বুড়িচং প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাংবাদিক গাজী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জাবিরের সভাপতিত্বে এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও কুমিল্লা জজ কোর্টের তরুণ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোঃ জাফর আলীর সঞ্চালনায় এ উপলক্ষে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন আনন্দপুর পশ্চিমপাড়া শাহ সালাম জামে মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মোঃ ইকরাম উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ তানভীর হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন কালিকাপুর আব্দুল মতিন খসরু সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ জামাল হোসেন এবং বুড়িচং প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক কাজী মোঃ খোরশেদ আলম।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন আনন্দ আইডিয়াল ইসলামিক স্কুলের অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ মিজানুর রহমান, বুড়িচং প্রেস ক্লাবের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আক্কাস আল মাহমুদ হৃদয়, বুড়িচং উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ বিল্লাল হোসেন, উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ জালাল উদ্দিন খানসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।
কম্বল পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অনেক শীতার্ত মানুষ। বৃদ্ধা আনোয়ারা আনু বলেন, “প্রতি বছর আলোকিত যুব উন্নয়ন সংস্থা আমাদের মতো গরিব মানুষদের কথা মনে রাখে। এই কনকনে শীতে কম্বল পেয়ে আমরা সত্যিই আনন্দিত।” তিনি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম জাবিরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তাঁর দীর্ঘায়ু কামনা করেন।
কালিকাপুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ আব্দুল হান্নান বলেন, “আমরা সারা বছর অপেক্ষা করি—জাহাঙ্গীর আলম জাবির ভাই কিছু একটা দেবেন এই আশায়। প্রতি বছরের মতো এবারও সুন্দর একটি কম্বল পেয়েছি। আমি তাঁর মরহুম মায়ের জন্য দোয়া করি, আল্লাহ যেন তাঁকে জান্নাত নসিব করেন।”
আনন্দপুর গ্রামের বৃদ্ধা শাহেরা বেগম বলেন, “আমি খুব গরিব মানুষ। প্রচণ্ড ঠান্ডায় গরম কাপড়ের অভাবে কষ্ট পাচ্ছিলাম। সমাজের অনেক ধনী মানুষ আমাদের কথা মনে করে না। একজন সাংবাদিক হয়েও জাহাঙ্গীর আলম জাবির আমাদের জন্য কম্বল দিয়েছেন—এটা আমাদের জন্য অনেক বড় বিষয়। আল্লাহ তাঁকে দীর্ঘ হায়াত দান করুন।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ তানভীর হোসেন বলেন, সাংবাদিক গাজী জাহাঙ্গীর আলম জাবির একজন লেখক, মানবিক ও উদার মনের সমাজসেবী। তাঁর কাছে কেউ সাহায্য চাইলে খালি হাতে ফিরে যায়—এমন উদাহরণ আমার জানা নেই। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি মানুষের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, যা সত্যিই প্রশংসনীয়।
বিশেষ অতিথি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ জামাল হোসেন বলেন, আলোকিত যুব উন্নয়ন সংস্থার মাধ্যমে প্রতি বছর দরিদ্র মানুষের মাঝে অর্থ, বস্ত্র ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। সমাজের বিত্তবান ও প্রবাসীদের এ ধরনের মানবিক উদ্যোগে এগিয়ে আসা উচিত। এতে সমাজের অসহায় মানুষের কষ্ট অনেকটাই লাঘব হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আনন্দপুর পশ্চিমপাড়া শাহ সালাম জামে মসজিদের সভাপতি বাবুল মিয়া, বুড়িচং প্রেস ক্লাবের ক্রীড়া ও আপ্যায়ন সম্পাদক ফয়েজ আহমদ, বাকশীমূল ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য কাজী মোঃ জাকির হোসেন, আলোকিত যুব উন্নয়ন সংস্থার সদস্য ডা. ফৌজিয়া রিজনা, মোসা. সেলিনা আক্তার, মোঃ আব্দুল আজিজ, মোঃ সুলতানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম জাবিরের মরহুমা মা জহুরা খাতুন, মামা হযরত ফকির আব্দুস সালাম (রহ.), দাদা-দাদী ও নানা-নানীর আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা মোঃ মিজানুর রহমান।
ক্যাপশন: আলোকিত যুব উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে বুড়িচংয়ে ৫০ জন এতিম, বয়স্ক ও অসহায় শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়।