মোঃ ফারুক সরকার : জেলা প্রতিনিধি বগুড়া।
শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মইনুদ্দিনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসীদের আশ্রয়–প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ তুলে বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন শেরপুর উপজেলার ঘোলাগাড়ি গ্রামের মোসাম্মৎ সাদিয়া আফরিন মিতু।
রবিবার (৫ অক্টোবর) ২০২৫ইং দুপুরে বগুড়া প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সাদিয়া আফরিন মিতু অভিযোগ করে বলেন, শেরপুর আদিবাসী সুবাস চন্দ্র মাহাতোর একটি পুকুর দখল করতে না পারায় সন্ত্রাসীরা ওসির ছত্রছায়ায় তার পরিবারের ওপর একের পর এক চাঁদাবাজি ও নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, “আমার ছোট ভাই মেহেদী হাসান ও মামা আজিজার রহমানের কাছে সন্ত্রাসীরা ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ২৯ আগস্ট তারা আমার ভাইকে টোলারগেইট এলাকায় ডেকে নিয়ে মারধর করে, জোরপূর্বক মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেয় এবং আমাদের বাড়ির চাবি ছিনিয়ে নিয়ে ঘরে প্রবেশ করে মূল্যবান কাগজপত্র, টাকা-পয়সা ও জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়।”
মিতুর অভিযোগ, “ওই ঘটনার পর থানায় গিয়ে অভিযোগ দিলে ওসি এসএম মইনুদ্দিন অভিযোগ নিতে অস্বীকার করেন এবং বলেন, ‘১ নম্বর আসামি সেতুর নাম বাদ দিলে অভিযোগ নেওয়া হবে’। এতে বোঝা যায়, ওসি’র ছত্রছায়াতেই এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চলছে।”
তিনি আরও জানান, “ওসি আমাদের মোটরসাইকেলটি সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে নিয়ে থানায় রাখলেও মামলা না নেওয়ায় আমরা আদালতের দ্বারস্থ হই। বর্তমানে মামলাটি পিবিআই-এর তদন্তাধীন রয়েছে। কিন্তু এর পর থেকে সন্ত্রাসীরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছে এবং প্রাণনাশের ভয় দেখাচ্ছে। আমরা এখন নিরাপত্তাহীন অবস্থায় আছি।”
সংবাদ সম্মেলনে সাদিয়া আফরিন মিতু প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে শেরপুর থানার ওসি এসএম মইনুদ্দিনের বিভাগীয় তদন্ত ও নিজ পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত সন্ত্রাসীদের মধ্যে রয়েছেন মৃত মোখলেছুর রহমানের ছেলে মোঃ সেতু, মৃত কাদের মির্জার ছেলে শফি মির্জা, হেনা সরকারের ছেলে লিটন মুন্সি এবং হযরত মাস্টারের ছেলে আরিফুল ইসলাম আরিফ প্রমুখ।