হামিদুর রহমান, তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি:
রাজশাহীর তানোর উপজেলার মুন্ডুমালা পৌরসভার করিমপুর গ্রামে জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে পাঁচজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দু’জন আহত হয়ে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে তানোর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত (২৫জুলাই) ২০২৬ বিকেল আনুমানিক ৫টা ৩০ মিনিটে করিমপুর গ্রামে অভিযোগকারী মোঃ কাওছার আলী (৬০), পিতা- মৃত ফনু মণ্ডল, এর নিজ বসতবাড়ির উত্তর পাশের দখলীয় সম্পত্তিতে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, পূর্ব পরিকল্পিতভাবে একই গ্রামের মোঃ মাহবুর রহমান (৪২), মোঃ হাবিবুর রহমান (৪৮), মোঃ রাজ্জাক আলী (৩০), মোঃ জলিল (৪৫) এবং মোঃ আলমগীর হোসেন (৪০) দলবদ্ধ হয়ে হাতে তারকাটার বেড়া, লোহার সাবল, হাঁসুয়া ও লাঠিসোটা নিয়ে অভিযোগকারীর জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে বেড়া নির্মাণের চেষ্টা করেন।
এ সময় কাওছার আলী বাধা দিতে গেলে রাজ্জাক আলীর নির্দেশে অভিযুক্তরা এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, হাবিবুর রহমান লোহার সাবল দিয়ে কাওছার আলীর মাথায় আঘাত করলে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন। একই সময় মাহবুর রহমান অভিযোগকারীর ভাতিজা মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন (৩৮)-এর মাথায় লোহার সাবল দিয়ে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, আহতদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে আহত কাওছার আলী ও তার ভাতিজা মোয়াজ্জেম হোসেনকে উদ্ধার করে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তারা বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট জমি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলমান রয়েছে এবং বিষয়টি বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
আহত কাওছার আলী চিকিৎসাধীন থাকায় তাঁর পক্ষে ছোট ভাই মোঃ সমসের আলী (৫২) তানোর থানায় এজাহারের কপি জমা দিয়েছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মাসুদ পারভেজ বলেন, “আমি অভিযোগের কপি পেয়েছি। অভিযোগকারী সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেছেন। তিনি চিকিৎসাধীন থাকায় তাঁর ছোট ভাইয়ের মাধ্যমে অভিযোগপত্র থানায় পাঠানো হয়েছে। অভিযোগটি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা হবে।