হামিদুর রহমান, রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি:
রাজশাহীর তানোর উপজেলায় সরকারি রাস্তার পাশে রোপণ করা গাছ অনুমতি ছাড়া কেটে নেওয়া ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল বাসির ও মো. রনির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি সম্পদ রক্ষায় বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কলমা ইউনিয়নের শালবাড়ি গ্রামের সড়কের পাশে প্রায় ১০ দিন আগে একটি সরকারি গাছ কেটে নেওয়া হয়। স্থানীয়দের দাবি, কেটে নেওয়া গাছটির বাজারমূল্য আনুমানিক ৫০ হাজার টাকা। তবে গাছটির প্রকৃত মূল্য ও মালিকানা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। সরকারি কর্মসূচিতে রোপণ করা হয়েছিল গাছ
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৫ বছর আগে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সরকারি কর্মসূচির আওতায় সরকারি অর্থায়নে শালবাড়ি গ্রামের সড়কের পাশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে এসব গাছের পরিচর্যা ও দেখাশোনা করা হতো।এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়কের পাশে থাকা এসব গাছের মধ্যে কোনো কোনো গাছ মাঝেমধ্যে কেটে নেওয়া হচ্ছে। তাদের দাবি, সরকারি জায়গায় রোপণ করা গাছ হওয়া সত্ত্বেও যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই গাছ কাটার ঘটনা ঘটছে।
গাছ কাটার বিষয়টি স্বীকার অভিযুক্তের ঘটনার বিষয়ে মো. রনির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, প্রায় ১৫ বছর আগে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সরকারি কর্মসূচির আওতায় রাস্তার পাশে গাছগুলো রোপণ করা হয়েছিল। তিনি জানান, গাছগুলোর দেখাশোনার দায়িত্বও স্থানীয়ভাবে তারা পালন করতেন।
রনির দাবি, কিছুদিন আগে স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল বাসির বাড়ি নির্মাণের জন্য কাঠের প্রয়োজনের কথা জানালে তার সঙ্গে কথা বলেই গাছটি কেটে নেওয়া হয়।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত আব্দুল বাসিরও গাছ কাটার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, গাছটি তার জমির পাশে থাকায় তিনি সেটি কেটে বাড়ি নির্মাণের কাজে ব্যবহার করেছেন।
তবে সরকারি রাস্তার পাশে রোপণ করা গাছ কাটার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না—এ বিষয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনুমতি থাকলে তার বৈধ কাগজপত্র কী, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
দফায় দফায় গাছ কাটার অভিযোগ
স্থানীয় কয়েকজন গ্রামবাসী অভিযোগ করে বলেন, শালবাড়ি গ্রামের রাস্তার পাশে সরকারি জায়গায় প্রায় ১৫শ’ গাছ রয়েছে। এসব গাছের মধ্যে মাঝেমধ্যে কিছু গাছ কেটে নেওয়া হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, আব্দুল বাসির ও রনির যোগসাজশে এসব গাছ কেটে বিক্রি করা হয়। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করা হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। গ্রামবাসীর আরও অভিযোগ, গাছ কাটার বিষয়ে কেউ প্রতিবাদ করলে কিংবা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিলে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়। এমনকি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ করেছেন তারা। তবে এ অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দা মো. মুন্টু বলেন, “দীর্ঘদিন ধরেই আব্দুল বাসির ও রনি দফায় দফায় গাছ বিক্রি করেন বলে আমরা দেখে আসছি। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে কিংবা আইনের আশ্রয় নিতে চাইলে গ্রামবাসীকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়।”
তিনি বলেন, সরকারি অর্থে এবং সরকারি কর্মসূচির মাধ্যমে রাস্তার পাশে গাছগুলো রোপণ করা হয়ে থাকলে সেগুলো রক্ষার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। তাই বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে গাছ কাটার সঙ্গে কারা জড়িত এবং গাছ কাটার অনুমোদন ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানান তিনি।
তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি
এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি রাস্তার পাশে রোপণ করা গাছ ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে ব্যবহার বা কেটে নেওয়ার সুযোগ নেই। গাছগুলো সরকারি সম্পদ হলে সেগুলো রক্ষায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
তারা আরও বলেন, গাছ কাটার ঘটনায় যদি কোনো ব্যক্তি সরকারি অনুমতি ছাড়া জড়িত থাকেন, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি ইতিপূর্বে রাস্তার পাশের যেসব গাছ কাটা হয়েছে, সেগুলোর বিষয়েও তদন্ত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাঈমা খান-এর সুদৃষ্টি কামনা করেছেন স্থানীয় গ্রামবাসী। তাদের প্রত্যাশা, প্রশাসন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গাছটির মালিকানা, সরকারি সম্পত্তির অবস্থান, গাছ কাটার অনুমোদন এবং পূর্বে গাছ কাটার অভিযোগগুলো তদন্ত করবে। একই সঙ্গে সরকারি সম্পদ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারি রাস্তার পাশে রোপণ করা গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি পথচারী ও স্থানীয় মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই সরকারি সম্পদ রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি ও নিয়মিত তদারকি জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।