হামিদুর রহমান, তানোর রাজশাহী প্রতিনিধি :
রাজশাহীর তানোর উপজেলা এক অবিস্মরণীয় ও আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো এইচএসসি ১৯৯৮ ব্যাচের বন্ধুদের ঈদ পূর্ণমিলনী। রবিবার (২২ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত তানোর আব্দুল করিম সরকার ডিগ্রি কলেজ মাঠ প্রাঙ্গণে “বন্ধুত্বের টানে, ভালোবাসার বাঁধনে” শিরোনামে দিনব্যাপী এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে থানার মোড় ঘুরে পুনরায় কলেজে এসে শেষ হয়। দীর্ঘ ২৯ বছর পর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে এসে একত্রিত হন সেই সময়ের সহপাঠীরা। সময়ের ব্যবধানে জীবনের নানা ব্যস্ততা থাকলেও একে অপরের প্রতি অটুট টান তাদের আবার ফিরিয়ে আনে শৈশব-কৈশোরের সোনালি দিনে।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজের প্রাক্তন শিক্ষকবৃন্দ—আব্দুল আজিজ স্যার, সোহরাব স্যার, আশরাফুল বুলু স্যার, ওয়াহেদ আলী স্যার, আতাউর রহমান স্যার, হাশেম আলী স্যার, আজিবুর রহমান স্যার ও ইলিয়াস স্যার। তাঁদের উপস্থিতি পুরো আয়োজনকে আরও গৌরবময় করে তোলে।
আজাদ, সোহেল ও কামালের উদ্যোগে এই ঈদ পূর্ণমিলনীর আয়োজন করা হয় এবং প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সোহেল রানা। সকাল থেকেই একে একে মিলিত হতে থাকেন সহপাঠী বন্ধু ও বান্ধবীরা। দীর্ঘদিন পর একে অপরকে কাছে পেয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। আলিঙ্গন, হাসি-আনন্দ আর স্মৃতিচারণে মুখর হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ।
কলেজ জীবনের পড়াশোনা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের নানা স্মৃতি যেন নতুন করে জীবন্ত হয়ে ওঠে সবার মাঝে। বর্তমানে অংশগ্রহণকারী বন্ধুরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত—কেউ সরকারি চাকরিজীবী, কেউ ব্যবসায়ী, কেউ শিক্ষাবিদ, আবার কেউ বিভিন্ন পেশায় দায়িত্ব পালন করছেন। তবে সব পরিচয় ছাপিয়ে তারা একত্রিত হন শৈশবের সেই অটুট বন্ধুত্বের টানে।
দিনব্যাপী এই আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে নানা কার্যক্রম—গান, আড্ডা, স্মৃতিচারণ এবং একসাথে মধ্যাহ্নভোজ। পিকনিকের সুস্বাদু খাবার রান্না করেন শামীম হোসেন, যা অংশগ্রহণকারীদের মাঝে বিশেষ প্রশংসা কুড়ায়।
আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণকারীরা তাদের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “আজকের এই দিনটি আমাদের জীবনের স্মৃতিপটে চির অম্লান হয়ে থাকবে। দীর্ঘ সময় পর একে অপরকে কাছে পেয়ে আমরা যেন আবার সেই শৈশবে ফিরে গেছি। ভবিষ্যতে এমন আয়োজন আরও বড় পরিসরে হওয়া উচিত।”
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে সম্মানিত শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়, যা ছিল দিনটির অন্যতম আকর্ষণীয় মুহূর্ত। পাশাপাশি সবাই একে অপরের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন এবং মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জ্ঞাপন করেন।
শেষ মুহূর্তে আবেগঘন পরিবেশে বন্ধুরা আবারও প্রতিশ্রুতি দেন—শুধু পেশাগত ক্ষেত্রেই নয়, মানবিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতায়ও তারা একে অপরের পাশে থাকবেন। এই ঈদ পূর্ণমিলনী শুধু একটি পিকনিক নয়, বরং ২৯ বছরের বন্ধুত্বের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করার এক অনন্য অঙ্গীকার হয়ে থাকবে