• সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৪ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
শ্রীপুর থানা প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি ঘোষণা: সভাপতি আশরাফুল, সম্পাদক ফরহাদ, সাংগঠনিক আশিকুর চৌহাট্টায় নির্মাণাধীন ট্রাফিক পুলিশ বক্সের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করলেন এসএমপি কমিশনার বাগেরহাটে মধুদিয়া ইচ্ছাময়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দুই দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত ভাণ্ডারিয়ায় জ্বালানি তেল সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ১৬ বছরের সংগ্রাম কাঁধে ঝাঁকা ডালি, স্বপ্ন শুধু পরিবারের সঙ্গে শেষ জীবন দৌলতখানে জেলেদের চালে ‘থাবা’ বরাদ্দ ৮০ কেজি, পেলেন মাত্র ৫০! আনোয়ারায় এখন তিনটি সার কারখানায় বন্ধ (ডিএপি) কুমিল্লার বুড়িচংয়ে অবৈধ অকটেন বিক্রি: জরিমানা, তেল জব্দ সিলেটের আলমপুর এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ০৫ জন গ্রেফতার! বুড়িচং প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ  ফুটবল টুর্নামেন্ট  অনুষ্ঠিত

জয়পুরহাটে ডায়রিয়ার প্রকোপ, পাঁচ দিনে হাসপাতালে ভর্তি ৪১৮ রোগী

Reporter Name / ১২৮ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৫

সুকমল চন্দ্র বর্মন (পিমল)
ষ্টাফ রিপোর্টারঃ

টানা তিন দিনের বৃষ্টির পর প্রচণ্ড গরমে জয়পুরহাটে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। গত পাঁচ দিনে জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ৪১৮ জন রোগী। এর মধ্যে বেশির ভাগই শিশু ও বয়স্ক।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (৪ অক্টোবর) হাসপাতালে ভর্তি হন ১৩৮ জন, রোববার ১০১ জন, সোমবার থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ১২৯ জন এবং বুধবার সকাল পর্যন্ত ভর্তি হন আরও ৪৮ জন। হঠাৎ রোগীর এমন চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।

হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও করিডোরে গিয়ে দেখা গেছে—শয্যা না পেয়ে অনেক রোগী মেঝেতে বা বারান্দায় বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে মেঝেতেই।

পৌরশহরের মাস্টারপাড়ার জালাল উদ্দিন জানান, সোমবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় আমার স্ত্রীর বমি ও পায়খানা শুরু হয়। হাসপাতালে নিয়ে এলে শয্যা না পেয়ে বারান্দায় বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

রোগী গোপাল প্রসাদ বলেন, পৌরসভার সরবরাহ করা পানিতে ময়লা থাকে। সেই পানি পান করেই অসুস্থ হয়েছি। রোববার ভর্তি হয়েছি, কিন্তু এখনও পুরোপুরি সুস্থ হইনি।

চাটখুর গ্রামের হাজেরা বানু জানান, পূজার মেলায় মিষ্টান্ন খাওয়ার পর থেকে মেয়ে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। এখনো বমি ও পায়খানা বন্ধ হয়নি।

ক্ষেতলালের আলাউদ্দিন বলেন, আমার ছেলে ডায়রিয়ার সঙ্গে বমিও করছে। কেন হয়েছে বুঝতে পারছি না।

হাসপাতালের নার্স সাদিয়া ইরা বলেন, হঠাৎ করে এত রোগী কেন বাড়ছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে আগেও পৌরসভার পানির লিকেজের কারণে এমন ঘটনা ঘটেছিল।

সহকারী চিকিৎসক ডা. মো. হারিছ বলেন, বেশির ভাগ রোগী পৌর এলাকার বাসিন্দা। অনেকেই পানি দূষণকেই কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন। পরীক্ষা করলে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মামুনুর রশীদ বলেন, আক্রান্ত এলাকাগুলোর পানি পরীক্ষার জন্য বগুড়ার ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষায় ত্রুটি ধরা পড়েনি। পানির কারণে হলে পুরো পৌরসভা আক্রান্ত হতো, তাই অভিযোগ সঠিক নয়।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সরদার রাশেদ মোবারক বলেন, পাঁচদিন ধরে ডায়রিয়া রোগীর চাপ স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি। পৌরসভার পানি সরবরাহ ও উন্মুক্ত খাবার—দুটিই এর কারণ হতে পারে।

জয়পুরহাটের সিভিল সার্জন ডা. আল মামুন বলেন, ডায়রিয়া পানিবাহিত রোগ, তাই এটি দূষিত পানি বা ভেজাল খাদ্য থেকেই ছড়ায়। ঘটনাটি জানার পর আমরা সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছি। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, পানি সরবরাহেই সমস্যা রয়েছে। পৌর প্রশাসককে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd