মোঃ শাহজাহান বাশার
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ভোররাত সাড়ে চারটার দিকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ঢাকা–হোমনা সড়ক সংলগ্ন বাজারের পূর্ব পাশের কাঠপট্টি এলাকায় ফার্নিচারের দোকান থেকে শুরু হওয়া আগুন মুহূর্তের মধ্যেই আশপাশের দোকানগুলো গ্রাস করে।
দাউদকান্দি, হোমনা ও চান্দিনা ফায়ার সার্ভিসের মোট নয়টি ইউনিট টানা আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল সাতটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে বাজারের প্রায় ২৫টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, আগুনের সূত্রপাত একটি ফার্নিচারের দোকান থেকে। দোকানে থাকা দাহ্য কেমিক্যাল ও রঙের কারণে আগুন দ্রুত ভয়াবহ আকার নেয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন চারপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।
ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী, আগুনে অন্ততঃ ১০টি ফার্নিচারের দোকান, একটি ইলেকট্রিক ও এসি শোরুম, ২টি অটোরিকশা গ্যারেজ, ৪টি মুদি দোকান এবং চাল ও খেজুরের একটি গোডাউন সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। ফার্নিচার ব্যবসায়ী আমির হোসেন বলেন,এই আগুনে আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। শুধু ফার্নিচার মার্কেটেই কয়েক কোটি টাকার মালামাল ছিল।”
প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪ কোটি টাকার বেশি হতে পারে।কুমিল্লা ফায়ার সার্ভিসের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন,আগুন নিয়ন্ত্রণে আমাদের সব ইউনিট একযোগে কাজ করেছে। তবে সঠিক কারণ এখনো নিরূপণ করা যায়নি।”
দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবদুল হালিম জানান, গৌরীপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা আগুন নেভাতে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছেন। তিনি বলেন,ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণে তদন্ত চলছে। ঘটনার সঠিক কারণও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, এ ধরনের বড় অগ্নিকাণ্ডে উপজেলা প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না, যা ভবিষ্যতে জরুরি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে।
ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সম্মিলিত প্রচেষ্টা না থাকলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারত। তবে স্থানীয়রা এখন তাদের ব্যবসার বড় ক্ষতির মুখোমুখি এবং পুনর্গঠন করতে বড় চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন।