আলবেরুনী চৌধুরী, কক্সবাজার থেকে:
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম একটি বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত। মৌসুম ছাড়াও এখানে পর্যটকের আনাগোনা থাকে চোখে পড়ার মতো। তবে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের এক আশ্চর্য বিষয় দেখা যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নেট দুনিয়ায়।
ঘটনাটি ঘটে আজ ৩ই মে ২৫ইং রোজ শনিবার কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত এলাকায়। কয়েক সেকেন্ডের ঐ ভিডিওতে দেখা যায়, সমুদ্রসৈকত থেকে একটি ফুটবল পা দিয়ে উড়োজাহাজের(বিমান)দিকে শুট করেন ওই তরুণ। ভিডিও দেখে মনে হচ্ছিল, বলটি উড়োজাহাজের অবস্থান থেকে আরও ওপরে ওঠার পর নিচের দিকে পড়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ভিডিও নিয়ে অনেকে নানা ধরনের মন্তব্য করেছেন। সাইফান হক নামের একজন লেখেন, ‘কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে ফুটবল খেলা নিষিদ্ধ করা উচিত। এটা ঘুরতে যাওয়ার জায়গা, খেলার মাঠ নয়। ছোট বাচ্চাদের নিয়ে যারা সৈকতে ঘুরতে যান, তাঁরা ফুটবল খেলা নিয়ে সমস্যার সম্মুখীন হন।’ রেজাউল করিম নামের আরেকজন লেখেন, ‘কাজটা ভালো হলো না। ফুটবলটা মারার কারণে বিমানটা দুর্ঘটনার কবলে পড়তে পারত।’
বিনয় রিসোর্ট নামের একটি আইডি থেকে লেখা হয়, ‘কক্সবাজার বিমানবন্দর সমুদ্রের একদম কাছাকাছি। সমুদ্রসৈকত থেকে খুব নিচু দিয়ে বিমানকে উড়তে দেখা যায়। এভাবে অনেক জনের অনেক মন্তব্য দেখা যায় ফেসবুক ও ইউটিউব কমেন্টে।
সূত্রে জানা যায়, বিমান অবতরণের শেষ পর্যায়ে এর উচ্চতা থাকে পাঁচ’শ থেকে এক হাজার ফুট উপরে। আর একটি বল মাটি থেকে উপরের দিকে সর্বোচ্চ ৬০-৮০ ফুট তোলা যায়।’ কামরুল হাসান নামের আরেকজন লেখেন, ‘বল যতটুকু উচ্চতায় উঠেছে, বিমান তার চেয়ে কয়েক শ গুণ বেশি উচ্চতা দিয়ে যায়। পাবলিকের কমেন্ট দেখে মনে হয়, এরা জীবনে কক্সবাজার আসেনি।’
তাহির ইসলাম নামের এক ব্যক্তির কমেন্টে লিখেন,এইরকম কম জ্ঞান আর ছোট কমনসেন্স নিয়ে এদেশের মানুষ বড় বড় দুর্ঘটনা ঘটায়।
তবে এই ধরনের উড়োজাহাজকে লক্ষ্য করেন ঘুরতে আসা পর্যটক বা স্থানীয় লোকদের লেজার লাইট, সমুদ্র পাড় থেকে ফুটবল,ঢিল ছৌড়া ইত্যাদি কাজ থেকে আমাদের বিরত ও সচেতন থাকা প্রয়োজন।
আন ইউজার নেম নামের একটি আইডির কমেন্ট দেখা যায়, কক্সবাজার বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক গোলাম মোর্তজা বলেন, বিমানবন্দর দিয়ে উড্ডয়নের সময় উড়োজাহাজ সাধারণত সমুদ্রসৈকতের ১ হাজার ৪০০ মিটার ওপর দিয়ে যায়। আবার অবতরণের সময় এক হাজার মিটার পর্যন্ত উঁচুতে থাকে। সে ক্ষেত্রে বালুচর থেকে কোন কিছু ছুড়ে মারলে (ফুটবল) তা বিমান পর্যন্ত আসার সুযোগ নেই। তবে বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে সমুদ্রসৈকত এলাকায় ড্রোন ওড়ানো, আকাশে আতশবাজি নিক্ষেপসহ নানা কার্যক্রম নিষিদ্ধ। উড়ন্ত বিমান লক্ষ্য করে ফুটবল ছুড়ে মারাসহ কোনো কিছু নিক্ষেপ করার বিষয়ে মানুষকে সতর্ক থাকা উচিত।
রিপোর্ট : আল বেরুনি চৌধুরী, কক্সবাজার থেকে।
তাং: ০৩/০৫/২৫ইং।