মো:রাফি হাসান
জেলা প্রতিনিধি, ঢাকা
আমাদের প্রকৃতির অন্যতম অমূল্য দান হলো বাঁশ। এটি শুধু একটি উদ্ভিদ নয়, বরং মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই প্রতিবছর ১৮ সেপ্টেম্বর “বিশ্ব বাঁশ দিবস” পালন করা হয়। এ দিবসের মাধ্যমে বাঁশের গুরুত্ব ও পরিবেশবান্ধব ব্যবহার সবার কাছে তুলে ধরা হয়।
বাঁশকে বলা হয় “গরিবের সোনা”। কারণ এটি সহজলভ্য, টেকসই এবং নানাভাবে ব্যবহারযোগ্য। ঘর তৈরিতে, আসবাবপত্র বানাতে, বাঁশঝাড় দিয়ে বেড়া দিতে, এমনকি রান্নায় বাঁশকোরলাও সুস্বাদু খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বাঁশ দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং প্রচুর অক্সিজেন উৎপন্ন করে, যা পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশ্ব বাঁশ দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য হলো :
বাঁশের বহুমুখী ব্যবহার সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা।
পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে বাঁশের প্রচার করা।
বাঁশজাত শিল্পকে প্রসারিত করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।
বনভূমি সংরক্ষণে কাঠের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া।
বাংলাদেশে বাঁশের ভূমিকা :
বাংলাদেশে প্রায় প্রতিটি গ্রামেই বাঁশঝাড় দেখা যায়। গ্রামের মানুষ ঘরবাড়ি তৈরি, মাছ ধরার ফাঁদ বানানো, ঝুড়ি, ডালি, মোড়া ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় অনেক জিনিস বাঁশ দিয়ে তৈরি করে। অর্থনৈতিক দিক থেকেও বাঁশ বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেছে।
বাঁশ শুধু আমাদের প্রয়োজন মেটায় না, পরিবেশ রক্ষাতেও সাহায্য করে। বাঁশ দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে টেকসই উন্নয়নের জন্য বাঁশ একটি অনন্য সম্পদ। তাই আমাদের উচিত বাঁশ রোপণ ও সংরক্ষণে এগিয়ে আসা, যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি সবুজ ও সুন্দর পৃথিবী পায়।