হামিদুর রহমান, তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি:
রাজশাহীর তানোর উপজেলার বহড়া গ্রামে বৃদ্ধা সাজিদা বেওয়াকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। তবে অভিযুক্ত পক্ষ দাবি করেছে, ভিডিওতে উত্থাপিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়, যেখানে বৃদ্ধা সাজিদা বেওয়া অভিযোগ করেন যে, তাঁর ছেলে সারুয়ার জাহান, পুত্রবধূ ও নাতিরা তাকে মারধর করেছেন। ভিডিওটি প্রকাশের পর বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
তবে সারুয়ার জাহান ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সাজিদা বেওয়ার বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাদের দাবি, পারিবারিক কিছু বিষয়কে কেন্দ্র করে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে এবং সাজিদা বেওয়া তাঁর মেয়ে ও জামাইয়ের পরামর্শে এমন বক্তব্য দিয়েছেন। অভিযুক্ত পরিবারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, তাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণভাবে তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। কোনো পক্ষের বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত কামনা করেন তারা।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলে জানা গেছে। জিডিতে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলও মনে করছে, বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় তদন্ত ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়।
এলাকাবাসীর মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত কোনো বক্তব্য বা ভিডিওকে একমাত্র প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা না করে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ, সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শনের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা প্রয়োজন। এতে একদিকে যেমন নিরপরাধ কেউ হয়রানির শিকার হবে না, অন্যদিকে প্রকৃত ঘটনা জনগণের সামনে স্পষ্ট হবে। স্থানীয়রা আরও বলেন, পারিবারিক বিরোধের জেরে অনেক সময় ভুল তথ্য বা একপাক্ষিক বক্তব্য প্রচারিত হতে পারে। তাই প্রশাসনের উচিত নিরপেক্ষভাবে তদন্ত পরিচালনা করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, লিখিত অভিযোগ বা জিডির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। তদন্তে যে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাবে, তার আলোকে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
সচেতন মহলের দাবি, ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করা হোক এবং যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।