খুলনা থেকে আহসানুল হক লড্ডন:
খুলনার ফুলতলায় কথিত এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি, হুমকি এবং একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে জড়িয়ে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ফুলতলা বাজারের ইউএসএস ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক মো. জাকারিয়া হুসাইন। শনিবার সন্ধ্যায় প্রেসক্লাব ফুলতায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন। লিখিত বক্তব্যে জাকারিয়া হুসাইন বলেন, তার প্রতিষ্ঠানটি সরকারের নিবন্ধন নিয়ে গত ১৭ বছর ধরে সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হয়ে আসছে। গত ১৪ আগস্ট ঝর্ণা বেগম নামে জ্বরের এক রোগী পল্লী চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন নিয়ে ভিডাল টেস্ট করাতে তাদের প্রতিষ্ঠানে আসেন। পরীক্ষায় টাইফয়েডের জীবাণু শনাক্ত হওয়ায় সে অনুযায়ী রিপোর্ট দেওয়া হয়। তিনি অভিযোগ করেন, গত ২২ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে এফ এম মামুন ওরফে রুবেল ওরফে ‘জঙ্গী মামুন’ পরিচয়ে একজন ব্যক্তি আরও একজনকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে তাদের প্রতিষ্ঠানে আসেন। ওই সময় পরীক্ষার রিপোর্টকে ভুল আখ্যায়িত করে তাদের কাছে নগদ ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে নিউজ পোর্টাল ও পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ দিয়ে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। জাকারিয়ার দাবি, দাবিকৃত টাকা না দেওয়ায় ২৩ আগস্ট ‘দৈনিক জনসংলাপ’ নামের একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের ফেসবুক পেজে তাদের প্রতিষ্ঠানকে জড়িয়ে একটি ভিডিও প্রতিবেদন প্রচার করা হয়। পরবর্তীতে ২৭ আগস্ট একই বিষয় নিয়ে পুনরায় ভিডিও, সংবাদ ও সাক্ষাৎকার প্রচার করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যাথলজি বিভাগে শুধু পরীক্ষা করে রিপোর্ট দেওয়া হয়। কোনো রিপোর্ট নিয়ে সন্দেহ থাকলে একই দিন অন্য প্রতিষ্ঠানে পুনরায় পরীক্ষা করে তুলনা করা যেতে পারে। কিন্তু এক সপ্তাহ পর করা পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে তাদের প্রতিষ্ঠানের রিপোর্ট নিয়ে প্রশ্ন তোলা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে তিনি দাবি করেন। এ সময় ফুলতলা এলাকার প্রবীণ চিকিৎসা সহকারী এবং সরকারি বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে অবসর নেওয়া শফিউদ্দিন মোল্যাকে ওই ভিডিওতে ‘কোয়াক ডাক্তার’ বলে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য ও হেয়প্রতিপন্ন করার অভিযোগও করেন জাকারিয়া হুসাইন। তিনি বলেন, ভিডিওতে ওই ব্যক্তির ওপর ভুল চিকিৎসার দায় চাপানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে এফ এম মামুনের বিরুদ্ধে অতীতের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের অভিযোগও তুলে ধরা হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করা হয়নি। লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, গত এপ্রিল মাসে খুলনা মেডিকেল কলেজের সাবেক পরিচালক ও ফুলতলার এ গফুর মেমোরিয়াল হাসপাতালের পরিচালক ডা. এটিএম মঞ্জুর মোর্শেদকে নিয়েও ওই কথিত সাংবাদিক তার অনিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টালে কাল্পনিক ও মনগড়া ভিডিও প্রচার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় ডা. এটিএম মঞ্জুর মোর্শেদ বাদী হয়ে খুলনা যুগ্ম জেলা জজ ২য় আদালতে মামলা করেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে বলে দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ইউএসএস ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক মো. জাকারিয়া হুসাইন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগগুলোর তদন্ত করে কথিত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে তার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচারিত সংবাদ ও ভিডিওর বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তেরও আহ্বান জানান তিনি।