• রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:২৫ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
জশনে জুলুসকে ‘রাজনৈতিক রং’দেওয়ার প্রতিবাদ ,জুলকারনাইন সায়েরের প্রতিবেদনকে ‘ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ আখ্যা দেশে ফিরছেন মির্জা আব্বাস সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইকালে শিক্ষিকা নিহ/তের ঘটনায় মূল হোতাসহ গ্রেপ্তার ২ আগামী ১ সেপ্টেম্বর খুলছে সুন্দরবন প্রস্তুত হচ্ছে, জেলে-বনজীবী ও পর্যটন ব্যবসায়ীরা তানোরে জমিতে পানি নিতে গিয়ে নিখোঁজ, একদিন পর বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার দণ্ডপ্রাপ্ত ও চাকরিচ্যুত কর্মচারী কীভাবে তিতাস গ্যাসের সিবিএতে সহ-সভাপতি? নাগেশ্বরীতে বিএনপি’র ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনে পৌর বিএনপির সদস্য সচিব আজিজুল হকের বার্তা নাগেশ্বরীতে ক্যাসিনো/জুয়ারি ১৯জন গ্রেফতার ৯জনের কারাদণ্ড রাজশাহীতে সড়ক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিতে চালক-মালিকদের সচেতনতামূলক কর্মশালা প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিলেন গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর

আগামী ১ সেপ্টেম্বর খুলছে সুন্দরবন প্রস্তুত হচ্ছে, জেলে-বনজীবী ও পর্যটন ব্যবসায়ীরা

Reporter Name / ৮ Time View
Update : রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬

রাসেল শেখ সুমন

ফকিরহাট উপজেলা প্রতিনিধি

আগামী ১ সেপ্টেম্বর খুলছে সুন্দরবন আর সেই খবরে বাগেরহাটসহ মোংলার নদী-খালপাড়ে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলেরা। দীর্ঘ তিন মাসের নিষেধাজ্ঞায় অলস পড়ে থাকা মাছ ধরার নৌকা মেরামত, নৌকার তলায় আলকাতরা দেওয়া, জাল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম গোছানোর কাজে ব্যস্ত তারা। কারও নৌকায় চলছে কাঠের পাটাতন মেরামত, আবার কেউ নৌকার গায়ে নতুন করে আলকাতরা লাগিয়ে প্রস্তুত করছেন সুন্দরবনে যাওয়ার জন্য।
মাছের প্রজনন মৌসুমকে সামনে রেখে চলতি বছরের জুন, জুলাই ও আগস্ট—এই তিন মাস সুন্দরবনের সব নদ-নদী ও খালে মাছ ধরা এবং বনজ সম্পদ আহরণ বন্ধ ছিল। একই সময়ে করমজল ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র ছাড়া সুন্দরবনের অন্যান্য পর্যটনকেন্দ্রেও পর্যটকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ রাখা হয়। ফলে তিন মাস কর্মহীন থাকার পর নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার প্রাক্কালে জেলে ও বনজীবীদের মধ্যে ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য।
বাগেরহাটসহ মোংলার বিভিন্ন নদী ও খালের পাড়ে সরেজমিনে দেখা যায়, সুন্দরবনে যাওয়ার জন্য শেষ প্রস্তুতি নিচ্ছেন জেলেরা। দীর্ঘদিন পানিতে না নামায় নৌকার বিভিন্ন অংশে মেরামতের প্রয়োজন হয়েছে। তাই নৌকা ঠিক করার পাশাপাশি জাল, দড়ি, বরফ রাখার পাত্রসহ মাছ ধরার প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও প্রস্তুত করছেন তারা।
জেলে মোঃ মতিন মোল্লা বলেন, “তিন মাস নদীতে মাছ ধরতে পারিনি। নৌকা পড়ে থাকায় বিভিন্ন জায়গায় মেরামত করতে হয়েছে। এখন নৌকায় আলকাতরা দিচ্ছি, জাল ও অন্যান্য সরঞ্জাম ঠিক করছি। ১ সেপ্টেম্বর থেকে সুন্দরবনে যেতে পারলে আবার মাছ ধরে সংসার চালাতে পারব।”
জেলে মোঃ মাসুদ শেখ বলেন, “নিষেধাজ্ঞার সময় নৌকা ও জাল মেরামত করে রেখেছি। এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিয়ে নদীতে যেতে চাই। আমরা খুশি। নিয়ম মেনে পাস-পারমিট নিয়ে নদীতে যেতে চাই।”
তিন মাস বন্ধ থাকার পর সুন্দরবন খুলে যাওয়ায় বনজীবীদের মধ্যেও স্বস্তি ফিরেছে। ১ সেপ্টেম্বর থেকে পাস-পারমিট নিয়ে বনজ সম্পদ আহরণের জন্য তারা বনে প্রবেশ করতে পারবেন। একই সঙ্গে পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হবে সুন্দরবনের কটকা, কচিখালী, হারবাড়িয়া, হিরণ পয়েন্ট, দুবলার চর, নীলকমলসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র।
সুন্দরবন খুলে দেওয়ার খবরে উচ্ছ্বসিত হওয়া পর্যটক মোঃ জুলফিকার আলী বলেন, “দীর্ঘদিন সুন্দরবন বন্ধ ছিল। ১ সেপ্টেম্বর থেকে খুলে দেওয়ার খবরে আমরা আনন্দিত। সুযোগ পেলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সুন্দরবন ঘুরতে আসব।”
এদিকে সুন্দরবন খুলে যাওয়ার আগেই নদীর পাড়ে জেলেদের নৌকা মেরামতের ব্যস্ততা যেন নতুন দিনের বার্তা দিচ্ছে। নৌকার গায়ে আলকাতরা, জাল মেরামত আর মাছ ধরার সরঞ্জাম গোছানোর মধ্য দিয়ে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। ১ সেপ্টেম্বর থেকে নদীতে নামবে জেলেদের নৌকা, বনে ফিরবেন বনজীবীরা এবং সৌন্দর্য উপভোগে ছুটে আসবেন পর্যটকরা। দীর্ঘ তিন মাসের পর আবারও নদীপথ ও সুন্দরবনজুড়ে ফিরবে প্রাণচাঞ্চল্য।
সুন্দরবন করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির জানান, সুন্দরবনকে ঘিরে পর্যটন খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে করমজল স্পটে প্রায় এক কিলোমিটার ফুটট্রেইল নতুন করে নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া একটি বুলেট ব্রিজ ও একটি আরসিসি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। পর্যটকদের সুন্দরবন সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে করমজলে নির্মাণ করা হয়েছে ইনফরমেশন সেন্টার।
তিনি বলেন, “তিন মাস বন্ধ থাকার পর সুন্দরবনের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যটকের ভিড় বাড়বে বলে আমরা আশা করছি। পর্যটকদের নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশ দিতে বন বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।”
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে পর্যটকরা সুন্দরবনে প্রবেশ করতে পারবেন। একই সঙ্গে বনজ সম্পদ আহরণের জন্য পাস-পারমিট নিয়ে বনজীবীরাও বনে প্রবেশ করতে পারবেন।
তিনি আরও জানান, মাছের প্রজনন মৌসুম হওয়ায় ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তিন মাস সুন্দরবনের সব নদ-নদী ও খালে মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল। এ সময় করমজল পর্যটনকেন্দ্র ছাড়া অন্যান্য সব পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকদের প্রবেশও বন্ধ রাখা হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd