নাগেশ্বরী উপজেলা প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী থানায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে ভাঙচুর, মারধর, স্বর্ণের চেইন ছিনতাই এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
উপজেলার নেওয়াশী ইউনিয়নের পূর্ব সুখাতী গিয়ারপাড় গ্রামের মো. বেলাল হোসেন এই অভিযোগ করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মো. বেলাল হোসেন ও বিবাদীদের বাড়ি পাশাপাশি হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে পারিবারিক ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে এর মীমাংসা হলেও বিবাদীরা ক্ষুব্ধ ছিল।
ঘটনার দিন গত ২৯/১০/২০২৮৬ তারিখে সকাল আনুমানিক ৬:০০ ঘটিকার সময় পূর্ব শত্রুতার জেরে বিবাদী মো. হাসান, মো. নূর ওরফে মোকাদ্দেস, মো. মোতালেবসহ অজ্ঞাতনামা ২/৩ জন বেআইনিভাবে দলবদ্ধ হয়ে হাতে বাঁশের লাঠি, লোহার রড, ধারালো ছোরা, দা ও বেকি নিয়ে বেলালের বসতবাড়ির আঙ্গিনায় প্রবেশ করেন।
এ সময় তারা বসতবাড়ির টিনের বেড়া ভাঙচুর এবং বেলাল ও তার স্ত্রী মোছা. লাবনী বেগমকে উচ্ছেদ করার উদ্দেশ্যে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন।
প্রতিবাদ করায় বিবাদীরা লাবনী বেগমকে টেনেহিঁচড়ে ২নং বিবাদীর বাড়ির আঙ্গিনায় নিয়ে গিয়ে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে এলোপাতারি মারধর করেন। বাধা দিতে গেলে বেলাল হোসেনকেও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে ১নং বিবাদীর হাতে থাকা ধারালো ছোড়ার কোপে লাবনী বেগমের মাথার বাম পার্শ্বে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়।
এছাড়া ২নং বিবাদী শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টার পাশাপাশি তার শ্লীলতাহানি ঘটায় এবং ৪নং বিবাদী তার গলা থেকে ১ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা মূল্যের ৮ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন চুরি করে নেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
স্থানীয় সাক্ষী সিরাজুল ইসলাম, দারোগ আলী ও ফরহাদ কমান্ডারসহ আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করেন।
পরে বিবাদীরা খুন-জখমের হুমকি দিয়ে চলে যান।
আহত অবস্থায় স্বজন ও স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে ভুক্তভোগী নারী সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় থানায় অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।