মোঃ মাকছুদুর রহমান পাটোয়ারী
জেলা প্রতিনিধি ভোলা
ভোলার দৌলতখানে দেওয়ানি আদালতে জমি সংক্রান্ত মামলা দায়ের করায় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বসতঘরে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার দক্ষিণ জয়নগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জহির উদ্দিন ব্যাপারী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ জয়নগর ইউনিয়নের বাসিন্দা কবির, জসিম ও ফজলুল করিম গংরা পৈতৃক ও ক্রয়সূত্রে পাওয়া প্রায় ৫০ থেকে ৫১ শতাংশ জমিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। তবে একই এলাকার মো. আমজাদ হোসেন উক্ত জমির মালিকানা দাবি করে বিভিন্ন সময় তাদের উচ্ছেদ ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে।
ধারাবাহিক হুমকির মুখে নিরাপত্তা ও স্বত্ব রক্ষায় ভুক্তভোগী মো. কবির হোসেন গত ১৯ অক্টোবর দেওয়ানি আদালতে আমজাদ হোসেন, এমরান হোসেন, জোবায়ের হোসেন ও মঞ্জু বেগমসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিবাদী করে একটি চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মামলা (দেওয়ানি মোকাদ্দমা নং- ৬৫/২৬) দায়ের করেন।
অভিযোগ রয়েছে, আদালতে মামলা দায়েরের সংবাদে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রধান বিবাদী মো. আমজাদ হোসেনের নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে কবির গংদের দখলকৃত বসতঘরে অনাধিকার প্রবেশ করে। তারা ঘরে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত করে। পাশাপাশি বাগান থেকে জোরপূর্বক সুপারি ও নারিকেল লুট করে নিয়ে যায় বলে ভুক্তভোগীরা দাবি করেন।
হামলা চলাকালে ঘরের নারী ও পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার শুরু করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ এ কল দিয়ে পুলিশের সাহায্য চান। খবর পেয়ে দৌলতখান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাজীবের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং প্রাথমিক তদন্ত পরিচালনা করে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা সটকে পড়ায় কাউকে তাৎক্ষণিক আটক করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান অভিযুক্ত মো. আমজাদ হোসেন হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা নিজেদের ঘর নিজেরা ভেঙে আমাদের ওপর মিথ্যা দায় চাপানোর চেষ্টা করছে। কবির গংরা আমাদের কাছ থেকে জমি কিনলেও বর্তমানে তারা যে জায়গাটি দখল করে আছেন, সেটি তাদের পাওয়ার কথা নয়; তাদের জমি অন্য স্থানে। তাই তাদের ওই জায়গা ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে। তবে আদালতে মামলা দায়েরের বিষয়টি আমার জানা নেই।
এ বিষয়ে দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফকরুল ইসলাম জানান, ৯৯৯ নম্বর থেকে কল পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। ঘটনার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মোঃ মাকছুদুর রহমান পাটোয়ারী
জেলা প্রতিনিধি ভোলা
০১৬১৬৬৬৭৪৯৬