হামিদুর রহমান,তানোর রাজশাহী প্রতিনিধি :
রাজশাহীর তানোর পৌরসভার কুটিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোয়াজ্জেম জাবেদ আলি দীর্ঘদিন ধরে সম্পূর্ণ বিনা পারিশ্রমিকে শিব নদীর বাঁধের দুই ধারে গাছ লাগিয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। প্রচণ্ড রোদ, ঝড়-বৃষ্টি কিংবা প্রতিকূল আবহাওয়া—কোনো কিছুই তাকে দমাতে পারেনি। নিজের শ্রম, মমতা ও ভালোবাসা দিয়ে তিনি বছরের পর বছর ধরে গাছগুলো রোপণ, পরিচর্যা ও সংরক্ষণ করে আসছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, গাছগুলোর অধিকাংশই আজ বড় আকার ধারণ করেছে। নদীর পাড়জুড়ে তৈরি হয়েছে সবুজের মনোরম পরিবেশ। অথচ এই বিশাল কর্মযজ্ঞের পেছনে নেই কোনো সরকারি ভাতা, সম্মানী কিংবা আর্থিক সহযোগিতা। শুধুমাত্র প্রকৃতি ও সবুজের প্রতি অগাধ ভালোবাসা থেকেই তিনি এই কাজ করে যাচ্ছেন। এলাকাবাসী জানান, মোয়াজ্জেম জাবেদ আলি একজন অত্যন্ত অসহায় ও দরিদ্র মানুষ। জীবনের নানা কষ্টের মধ্যেও তিনি কখনো নিজের স্বার্থের কথা ভাবেননি। বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ পরিবেশ গড়ে তুলতেই নিরলস পরিশ্রম করে চলেছেন। এজন্য এলাকায় তিনি “গাছ প্রেমিক” নামেই পরিচিত।
স্থানীয়রা আরও জানান, অনেক সময় দেখা যায় তিনি একাই গাছের চারপাশ পরিষ্কার করছেন, পানি দিচ্ছেন কিংবা ভেঙে যাওয়া ডালপালা ঠিক করছেন। বছরের পর বছর ধরে এভাবেই তিনি নিজের সন্তানের মতো গাছগুলোকে বড় করে তুলেছেন। তার এই আত্মত্যাগ ও ভালোবাসার ঋণ কোনোদিন শোধ করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন এলাকাবাসী।
তানোর পৌরসভার সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিজান বলেন,
“আমি তাকে ব্যক্তিগতভাবে চিনি। তিনি অত্যন্ত ভালো মানুষ। এই বয়সে এসেও যেভাবে নিরলসভাবে গাছের পরিচর্যা করে যাচ্ছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। সমাজের জন্য তিনি একটি উদাহরণ। আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”
কুটিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জালাল উদ্দিন বলেন, আমার বাড়ির পাশেই তার বাড়ি। তিনি অনেক অসহায় ও গরিব মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে শিব নদীর দুই ধারের গাছগুলো তিনি একাই মানুষ করেছেন। তার এই অবদান আমরা কোনোদিন ভুলতে পারবো না। আমরা সবাই তার কাছে ঋণী। এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, পরিবেশ রক্ষায় অসামান্য অবদান রাখা এই গাছপ্রেমী বৃদ্ধের পাশে সরকারের দাঁড়ানো উচিত। তারা তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাঈমা খানের সুদৃষ্টি কামনা করে বলেন, মোয়াজ্জেম জাবেদ আলির জন্য যেন মাসিক ভাতা বা বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এমন মানুষদের মূল্যায়ন করা হলে সমাজে পরিবেশ রক্ষায় আরও অনেকে উদ্বুদ্ধ হবেন। একই সঙ্গে প্রকৃতি ও মানবতার প্রতি ভালোবাসার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন গাছপ্রেমী মোয়াজ্জেম জাবেদ আলি।