দক্ষিণ সুরমা সিলেট।
আহমেদ আকবর
সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং স্থানীয়ভাবে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ সেলিম মিয়া ওরফে “ল্যাংড়া সেলিম” শনিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে জানা গেছে। তার গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে সিলেট মহানগরীর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পীর মহল্লা এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
স্থানীয় সূত্র ও এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সেলিমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ প্রচলিত ছিল। এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ, তার নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ গ্রুপ এলাকায় সক্রিয় ছিল এবং এসব কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ মানুষ উদ্বেগ ও আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছিলেন।
এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, ৭ নম্বর ওয়ার্ডে চাঁদাবাজি, চুরি, ছিনতাই, জুয়া পরিচালনা, সুদের কারবার এবং বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ ছিল। স্থানীয়দের একাংশ দাবি করেন, চাঁদার টাকা না দিলে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানির ঘটনা ঘটত বলে তারা অভিযোগ শুনেছেন। এছাড়া বাসাবাড়িতে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগও স্থানীয়ভাবে আলোচিত ছিল বলে দাবি করেন কেউ কেউ। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, সেলিমের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে তারা দাবি করেন। এছাড়া যুবদল নেতা নাসির উদ্দিন রহিমের ওপর হামলার ঘটনায়ও তার নাম আলোচনায় এসেছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
গ্রেপ্তারের পর এলাকাবাসীর অনেকেই স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, যদি তার কোনো সহযোগী বা ঘনিষ্ঠ সহচর আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থেকে থাকেন, তাহলে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
স্থানীয়দের মতে, পীর মহল্লা ও আশপাশের এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে চলমান অভিযান অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের আহ্বান জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, বিভিন্ন অভিযোগ ও সাম্প্রতিক গ্রেপ্তারের ঘটনার পরও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। তাদের প্রশ্ন, অভিযোগগুলো দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকার পরও দলীয়ভাবে বিষয়টি কেন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়নি। তারা দাবি করেন, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হোক এবং প্রয়োজনবোধে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। একই সঙ্গে এলাকাবাসী আশা করছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।