• শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ০৪:৫৭ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্রাজিল সমর্থকদের উচ্ছ্বাস, হাইতির বিপক্ষে জয়ে আনন্দ মনিরুল হক চৌধুরী এমপির সাথে কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের সাক্ষাৎ বুড়িচং বারেশ্বর চৌমুহনী সড়কের সংস্কার কাজের উদ্বোধন অবৈধভাবে মাছ শিকার, ভাণ্ডারিয়ায় দুই জেলেকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা সিলেট নগরে জলাবদ্ধতা : ১৬ বছরে ১১২৭ কোটি টাকা খরচ করেও সুফল মেলেনি মোহাম্মদপুরে মাদকবিরোধী মানববন্ধন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের আহ্বান কুমিল্লায় ইস্টার্ণ ইয়াকুব প্লাজা দোকান মালিক সমবায় সমিতির বর্ণাঢ্য পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান মেসিকে ব্রাজিল দলে সই করানোর কথা ভাবছি: ব্রাজিল প্রেসিডেন্ট মধ্যনগরে ধ/র্ষ/ণ মামলার আসামিসহ তিনজন গ্রেফতার ওসমানী মেডিকেলে দালাল চক্রের ৪ সদস্যকে কারাদণ্ড

মেরাজ : মানবতার জন্য আসমানি বার্তা ও আত্মশুদ্ধির মহাসফর

Reporter Name / ২৪২ Time View
Update : শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬

মোঃ শাহজাহান বাশার

ইসলামের ইতিহাসে মেরাজ এমন এক অলৌকিক ও মহিমান্বিত অধ্যায়, যা মানব বুদ্ধি ও কল্পনার সীমা ছাড়িয়ে আল্লাহর কুদরতি নিদর্শন হিসেবে চিরকাল উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। এটি শুধু একটি সফর নয়—বরং বিশ্বাস, ইবাদত, নৈতিকতা ও আত্মশুদ্ধির এক অনন্য পাঠশালা। হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মেরাজ সফর মানবজাতির জন্য ছিল আসমানি বার্তা বহনকারী এক অতুলনীয় অভিজ্ঞতা।

মেরাজের রাতে আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় নবীকে এমন সব দৃশ্য প্রত্যক্ষ করান, যা কেয়ামত পর্যন্ত আগত মানবজাতির জন্য সতর্কবার্তা, সুসংবাদ ও দিকনির্দেশনা হয়ে থাকবে। এই সফরেই নবীজি (সা.) দ্বিতীয়বারের মতো ফেরেশতাদের সর্দার জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম)-কে তাঁর প্রকৃত ও আসল রূপে দেখেন। ছয়শত বিশাল ডানার অধিকারী এই মহান ফেরেশতা, যাঁর এক একটি ডানা দিগন্তের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত—তাঁকে নবীজি (সা.) ‘সিদরাতুল মুনতাহা’র নিকটে তাঁর পূর্ণ মহিমায় প্রত্যক্ষ করেন। এখানেই সৃষ্টির জ্ঞানের সীমারেখা শেষ হয়ে যায়।


এই মহাসফরের শুরু হয়েছিল জান্নাতি বাহন ‘বুরাক’-এ চড়ে। শ্বেত বর্ণের এই বাহনটি ছিল গাধার চেয়ে বড় এবং খচ্চরের চেয়ে ছোট; যার প্রতিটি কদম পড়ত দৃষ্টির শেষ সীমায়। মক্কা থেকে বাইতুল মোকাদ্দাস পর্যন্ত এই বাহনেই নবীজি (সা.) ভ্রমণ করেন—যা আধুনিক বিজ্ঞানের গতিবেগ সম্পর্কিত ধারণাকেও চ্যালেঞ্জ করে।

মাসজিদুল আকসায় পৌঁছে নবীজি (সা.) অতীতের সব নবী-রাসুলদের নিয়ে জামাতে নামাজ আদায় করেন এবং তাঁদের ইমামতি করেন। ইমাম ইবনে কাসীর (রহ.)-এর বর্ণনা অনুযায়ী, এটি ছিল নবুয়তের চূড়ান্ত নেতৃত্বের এক ঐতিহাসিক ঘোষণা—যেখানে শেষ নবী হিসেবে মুহাম্মদ (সা.) সমগ্র নবী-পরম্পরার ইমাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।

এরপর জিবরাঈল (আ.)-এর সাথে নবীজি (সা.) একে একে সাত আসমানে আরোহণ করেন। প্রথম আসমানে আদম (আ.), দ্বিতীয় আসমানে ঈসা (আ.) ও ইয়াহইয়া (আ.), তৃতীয় আসমানে ইউসুফ (আ.), চতুর্থ আসমানে ইদ্রিস (আ.), পঞ্চম আসমানে হারুন (আ.), ষষ্ঠ আসমানে মুসা (আ.) এবং সপ্তম আসমানে ইব্রাহিম (আলাইহিমুস সালাম)-এর সাথে সাক্ষাৎ করেন। প্রত্যেক নবী তাঁকে স্বাগত জানান, সম্ভাষণ করেন এবং দোয়া করেন—যা নবীজির মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতার এক উজ্জ্বল প্রমাণ।

সপ্তম আসমানে নবীজি (সা.) দেখেন ‘বায়তুল মামুর’—যা ফেরেশতাদের কাছে দুনিয়ার মানুষের কাছে কাবা শরিফের মতোই পবিত্র। সহীহ বুখারীর বর্ণনা অনুযায়ী, সেখানে প্রতিদিন ৭০ হাজার ফেরেশতা ইবাদত করেন এবং একবার ইবাদত শেষে বের হলে আর কখনো সেখানে ফিরে আসার সুযোগ পান না—ফেরেশতার সংখ্যার আধিক্য এতই বিস্ময়কর।

এরপর নবীজি (সা.) ‘সিদরাতুল মুনতাহা’ অতিক্রম করে জান্নাতুল মাওয়া ও জান্নাতের অপরূপ নেয়ামত অবলোকন করেন। জান্নাতে তিনি কাউসার নামক এক অপূর্ব নদী দেখেন—যার তীরজুড়ে ছিল মণি-মুক্তা খচিত প্রাসাদ ও তাবু। নদীর মাটি ছিল কস্তুরীর মতো সুবাসিত। জিবরাঈল (আ.) জানালেন—এই নদী আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে নবীজির জন্য বিশেষ উপহার।

তবে মেরাজ কেবল আনন্দ ও সম্মানের সফর ছিল না; এটি ছিল কঠোর সতর্কতার সফরও। নবীজি (সা.) আল্লাহর নির্দেশে কিছু ভয়ংকর শাস্তির দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেন—যা উম্মতের জন্য স্পষ্ট সতর্কবার্তা। তিনি দেখেন, একদল মানুষ তামা বা পিতলের নখ দিয়ে নিজেদের মুখ ও বুক ছিঁড়ে রক্তাক্ত করছে—এরা ছিল গীবতকারীরা। আবার দেখেন, কিছু মানুষের ঠোঁট ও জিহ্বা আগুনের কাঁচি দিয়ে কাটা হচ্ছে—এরা ছিল সেই সব বক্তা ও উপদেশদাতা, যারা মানুষকে ভালো কথা বলত কিন্তু নিজেরা তা মানত না। তিনি রক্তের নদীতে সুদখোরদের শাস্তিও প্রত্যক্ষ করেন এবং জাহান্নামের প্রধান রক্ষী ফেরেশতা মালিক (আ.)-এর সাথে সাক্ষাৎ করেন।

এই মহাসফরের সর্বশ্রেষ্ঠ উপহার ছিল—উম্মতে মুহাম্মদির জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ। আসমান থেকে নেমে আসা এই ফরজ ইবাদত আমাদের জন্য আল্লাহর সাথে সরাসরি সম্পর্ক স্থাপনের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম।

মেরাজ আমাদের শেখায়—ইবাদতহীন উন্নতি নেই, নৈতিকতা ছাড়া মুক্তি নেই এবং নামাজ ছাড়া আল্লাহর নৈকট্য সম্ভব নয়। আজকের অশান্ত পৃথিবীতে মেরাজের শিক্ষা আমাদের আত্মশুদ্ধি, সমাজসংস্কার ও মানবিকতা গঠনের অনন্য দিশারি হয়ে উঠতে পারে।

মেরাজ কেবল স্মরণের বিষয় নয়—বরং বাস্তব জীবনে প্রয়োগের আহ্বান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd