মোঃ শাহজাহান বাশার
একটি রাষ্ট্র কত উন্নত হবে তার নির্ভরযোগ্য সূচক হলো—সুশাসন। যদি সুশাসন না থাকে, তবে উন্নয়নের ডামাডোল যতই বাজুক না কেন, তা কাগুজে সাফল্য ছাড়া কিছুই নয়। দুর্নীতি হলো সেই মারাত্মক বাঁধা, যা উন্নয়নের প্রবাহকে থামিয়ে দেয়, বিকৃত করে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রকে আর্থিকভাবে পঙ্গু করে দেয়।
উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি—এক গভীর ক্ষত -মেগা প্রকল্প, রাস্তা, সেতু, ড্রেন, ভবন—যেখানে অর্থ বরাদ্দ বেশি, সেখানে দুর্নীতির নখ দীর্ঘ।
চুক্তি অনুমোদন থেকে শুরু করে বাস্তবায়ন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে থাকে—
কমিশন,অতিরিক্ত বিল,নিম্নমানের কাজ,‘সিন্ডিকেট অনুমোদন’এবং অযোগ্য ঠিকাদারের নিয়ন্ত্রণ।একটি রাস্তা দশ বছরের জন্য নির্মিত হয়, কিন্তু দুই বছরেই গর্তে ভরে যায়।
একটি ড্রেন বানানো হয়, খরচ হয় কোটি টাকা, কিন্তু বর্ষায় পানি নামতে পারে না—সমাজের জন্য এটি অপমান।
অর্থনীতিতে দুর্নীতির করাল প্রভাব-দুর্নীতির কারণে—বিদেশি বিনিয়োগ কমে যায়,ব্যবসায়িক পরিবেশ দুর্বল হয়,ব্যাংকিং খাত অস্থিতিশীল হয়,এবং সরকারি ব্যয় অকার্যকর হয়ে পড়ে।
সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয় হলো—দুর্নীতির কারণে রাষ্ট্রকে বেশি ঋণ নিতে হয়।
ঋণের সুদ পরিশোধ করতে গিয়ে, ট্যাক্স বাড়ে,পণ্যদ্রব্যের দাম বাড়ে,মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবার চাপে পড়ে।
অর্থাৎ দুর্নীতি করে সুবিধা নেয় কয়েকজন,কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশের ১৭ কোটি মানুষ।উন্নয়নের প্রকৃত শত্রু কে?যারা বলে—দেশে উন্নয়ন হচ্ছে, কিন্তু দুর্নীতি নিয়ে কথা বলে না, তারা আসলে উন্নয়নের বিরোধী।
কারণ দুর্নীতি উন্নয়নকে কেবল ধীরগতির করে না—দীর্ঘমেয়াদে একেবারে ধ্বংস করে দেয়।
উন্নয়নের মূল শক্তি হলো—সুশাসন, জবাবদিহি, স্বচ্ছতা, দক্ষতা।
যে দেশে দুর্নীতিকে ‘স্বাভাবিক’ ভাবা হয়, সে দেশে সত্যিকারের উন্নয়ন কখনো টেকসই হয় না।
লেখক
মোঃ শাহজাহান বাশার
সাংবাদিক ও কলম যোদ্ধা