নাগেশ্বরী উপজেলা প্রতিনিধি
সরকারের সিদ্ধান্তে জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও কুড়িগ্রাম জেলা শাখার আহ্বায়ক মোঃ সোহেল রানা।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ও আমদানি ব্যয়ের চাপের কথা সরকার বলতে পারে। কিন্তু সেই চাপের পুরোটা সাধারণ মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কতটা যৌক্তিক—এ প্রশ্নের জবাব সরকারকে দিতে হবে।
তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে শুধু পরিবহন ব্যয়ই বাড়ে না; কৃষি, উৎপাদন, পণ্য পরিবহনসহ অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে এর প্রভাব পড়ে। শেষ পর্যন্ত এর বোঝা গিয়ে পড়ে সাধারণ ভোক্তা, কৃষক, শ্রমিক ও সীমিত আয়ের মানুষের ওপর।
তিনি বলেন, “রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব শুধু রাজস্ব ও ব্যয়ের হিসাব মেলানো নয়; মানুষের জীবন-জীবিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করাও সরকারের দায়িত্ব। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর উদ্যোগের পাশাপাশি জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে থাকলে সীমিত আয়ের শ্রমজীবী মানুষের বাস্তব আয় ও জীবনযাত্রার ওপর চাপ আরও বাড়বে।”
তিনি সরকারের কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, খেটে খাওয়া মানুষের স্বস্তির জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে? মূল্যবৃদ্ধির বোঝা কমাতে বিকল্প কী? শ্রমজীবী মানুষের আয় ও জীবনযাত্রার সুরক্ষা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা কোথায়?
তিনি অবিলম্বে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম জনগণের নাগালের মধ্যে রাখা এবং কৃষক-শ্রমিক ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য কার্যকর মূল্যসুরক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
একই সঙ্গে তিনি শ্রমিক, কৃষক ও মেহনতি মানুষকে নিজেদের জীবন-জীবিকার প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অন্যায্য মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিকভাবে সোচ্চার হতে হবে এবং জনবান্ধব অর্থনৈতিক নীতির দাবি জোরদার করতে হবে।
তিনি বলেন, “মানুষের ওপর বোঝা চাপিয়ে নয়—জনগণের জীবন-জীবিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করেই অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ করতে হবে।”