মোঃ ফারুক সরকার
জেলা প্রতিনিধি, বগুড়া
বাংলার গ্রামীণ জীবনে বিয়ে মানেই উৎসব, আনন্দ আর মিলনমেলা। সেই আনন্দের অন্যতম অনুষঙ্গ হলো ‘গায়ে হলুদ’—যা যুগের পর যুগ ধরে বাঙালির সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছে। বিয়ের আগের দিন এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে কনে ও বরপক্ষের বাড়িতে শুরু হয় হাসি-আনন্দে ভরা উৎসব।
প্রাচীনকাল থেকেই বাঙালিরা বিশ্বাস করে যে, হলুদ সৌন্দর্য, পবিত্রতা ও শুভলক্ষণে ভরপুর। তাই বিয়ের আগে কনে ও বরকে হলুদ মাখানো হয় যেন জীবনে সুখ-সমৃদ্ধি আসে। গ্রামের মহিলারা ভোর থেকে হলুদ বাটতে বসেন, গায়ে হলুদ গানে মুখরিত হয় চারদিক। কনের গায়ে প্রথমে বয়স্কা মহিলারা হলুদ মাখান, এরপর আত্মীয়-স্বজন ও বান্ধবীরা অংশ নেন এই আনন্দে।

গ্রামীণ কনে সাধারণত পরেন হলুদ বা গাঁদা রঙের শাড়ি, মাথায় ফুলের টিকলি আর হাতে ফুলের বালা। ঘর সাজানো হয় কলাপাতা, গাঁদা ফুল ও রঙিন কাগজে। তরুণ-তরুণীরা অংশ নেন নাচ-গানে, বাজে ঢোল, খঞ্জনী, বাঁশি—সব মিলিয়ে গায়ে হলুদ হয়ে ওঠে এক সামাজিক উৎসব।
খাবারেও থাকে ঐতিহ্যের ছোঁয়া—পিঠা, পায়েস, খিচুড়ি, মাংস ও মিষ্টান্ন দিয়ে আপ্যায়ন করা হয় অতিথিদের। এদিন শুধু কনে নয়, পুরো গ্রামের মানুষ একাত্ম হয় আনন্দে।
আধুনিকতার ছোঁয়ায় এখন শহরেও গায়ে হলুদের আয়োজন দেখা যায়, তবে গ্রামের গায়ে হলুদে এখনও টিকে আছে সেই মাটির ঘ্রাণ, আন্তরিকতা আর ঐতিহ্যের সৌন্দর্য।
গায়ে হলুদ তাই শুধু বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা নয়—এটি গ্রামীণ জীবনের হৃদয়স্পর্শী সংস্কৃতি, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বয়ে চলছে বাঙালিয়ানার প্রতীক হয়ে।