• রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১৩ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
কখনো কর্মকর্তা কখনো গায়ক-শিল্পপতি,ফারদিনের বিয়ে নামক প্রতারণার ফাঁদে নিঃস্ব একাধিক নারী বর্ণাঢ্য আয়োজনে ভান্ডারিয়ায় ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত নাগেশ্বরীতে জাকারিয়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিদের সন্ধান দিতে পারলে পুরুষ্কারের ঘোষণা দিলেন পরিবার গিরারপাড় জান্নাতুল বাকী কবরস্থানের বার্ষিক মাহফিল ও সার্বিক উন্নয়নকল্পে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ভাণ্ডারিয়ায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত, বিএনপির আনন্দ র‌্যালি ও বৃক্ষরোপণ নাগেশ্বরীতে গণসংহতি আন্দোলনের আঞ্চলিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত কদমতলী পুলিশ ফাঁড়ির টু-আইসি কামরুজ্জামানের ফুলের শুভেচ্ছা দেওয়া নিয়ে তোলপাড়, জনমনে তীব্র ক্ষোভ তানোরে ১৮ কাঠা জমি দখলের অভিযোগ, ভোরে কাঁচা ধান কেটে নিয়ে যাওয়ার দাবি আতঙ্কে পরিবার নাগেশ্বরীতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপিত সুরমায় ওয়াগন ট্রেন না আসায় তীব্র তেল সংকট: চরম ভোগান্তিতে ট্যাংক লরি শ্রমিকরা

কখনো কর্মকর্তা কখনো গায়ক-শিল্পপতি,ফারদিনের বিয়ে নামক প্রতারণার ফাঁদে নিঃস্ব একাধিক নারী

Reporter Name / ২২ Time View
Update : রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬

‎সেলিম রেজা, স্টাফ রিপোর্টার
‎
‎ কখনো সরকারি কর্মকর্তা, কখনো গায়ক, আবার কখনো শিল্পপতি এমন নানা পরিচয়ে নারীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে বিয়ের প্রলোভনে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাসুম বিল্লাল ফারদিন নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে অর্থ নেওয়ার পর যোগাযোগ বন্ধ করে দেন তিনি। এখন পর্যন্ত প্রায় ৫ থেকে ৭ জন নারী তাঁর বিরুদ্ধে একই ধরনের প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
‎
‎অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ৪০ বছর বয়সী মাসুম বিল্লাল ফারদিন নিজেকে অবিবাহিত দাবি করে নারীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। তবে তাঁর একাধিক স্ত্রী রয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। তাঁর চাকচিক্যপূর্ণ জীবনযাপন, কথাবার্তা ও বিভিন্ন পরিচয়ের মাধ্যমে নারীদের বিশ্বাস অর্জন করে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
‎
‎ ফারদিন সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার মাছুমপুর এলাকার মৃত মনোয়ার হোসেন রহমাতুল্লার ছেলে। পেশাগতভাবে বেকার হলেও তাঁর চলাফেরা ও কথাবার্তায় নিজেকে বিত্তশালী হিসেবে উপস্থাপন করেন তিনি।
‎
‎ফারদিনের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলে শারমিন (ছদ্মনাম) নামে এক ভুক্তভোগী জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর সঙ্গে ফারদিনের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে ফারদিন তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। শারমিনও প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়ে ফারদিনকে তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিয়ের বিষয়ে কথা বলার অনুরোধ করেন।এরপর ফারদিন কয়েকজন ব্যক্তিকে নিজের বাবা-মা পরিচয় দিয়ে তাঁর পরিবারের সঙ্গে কথা বলান। দুই পরিবারের মধ্যে আলোচনার পর বিয়ের দিন-তারিখও ঠিক করা হয়।
‎
‎এ অবস্থায় হঠাৎ ফারদিন তাঁকে ফোন করে আর্থিক সংকটে পড়েছেন বলে জানান। বিয়ের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে কয়েক দিনের জন্য টাকা ধার চান তিনি। টাকা না পেলে বিয়ে করতে যেতে পারবেন না বলেও জানান শারমিনকে।
‎
‎ভুক্তভোগী শারমিন বলেন, সরল বিশ্বাসে তিনি ধাপে ধাপে বিকাশের মাধ্যমে ফারদিনকে এক লাখ টাকা দেন। পরে আরও এক লাখ টাকা দাবি করলে বিয়ের আশ্বাসে তাঁকে মোট দুই লাখ টাকার বেশি অর্থ প্রদান করেন। কিন্তু টাকা নেওয়ার পর ফারদিন তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন। এরপর থেকে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। কোন এক মাধ্যমে যোগাযোগ করে বিয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে ফারদিন বিষয়টি এড়িয়ে যেতে থাকেন। পরে তিনি সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ লিখিত দায়ের করেন। পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে ফারদিনের একাধিক স্ত্রী থাকার তথ্য জানতে শারমিন।
‎
‎শুধু শারমিন নন, ফারদিনের বিরুদ্ধে আরও কয়েকজন নারীর সঙ্গে একই ধরনের প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, ভিন্ন ভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করে নারীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা, বিয়ের আশ্বাস দেওয়া এবং বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ নেওয়ার পর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়াই তাঁর কৌশল।এ ছাড়া সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন থানায় ভুক্তভোগীরা তাঁর বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।
‎
‎অভিযোগকারীদের দাবি, ফারদিনের কর্মকাণ্ড নিয়ে একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কার্যকর পদক্ষেপের বিষয়ে তাঁরা নিশ্চিত নন। ফলে একই কৌশলে আরও নারী প্রতারণার শিকার হতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগীরা।
‎
‎তাঁদের দাবি, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে অভিযুক্তের প্রকৃত পরিচয়, বৈবাহিক অবস্থা, অর্থ লেনদেন এবং বিভিন্ন থানায় দায়ের করা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হোক। একই সঙ্গে প্রতারণার শিকার নারীদের অর্থ ফেরত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।
‎
‎অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মাসুম বিল্লাল ফারদিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার ব্যবহারিত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd