• শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:২৬ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
সাভার উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে জাল স্বাক্ষরে চাল আত্মসাৎ এর অভিযোগ, সাংবাদিক ও মালিক গ্রেপ্তারে লাগবে আদালতের অনুমতি সাইবার সুরক্ষা আইন পুনর্বিন্যাস জামিনের প্রশ্ন শুনে আদালত চত্বরে মেজাজ হারালেন পরীমনি, সাংবাদিকদের সঙ্গে তুমুল বাগবিতণ্ডা তানোরে উৎসবমুখর পরিবেশে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২’-এর উদ্বোধন প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে তোলা ছবি প্রোফাইল ফটোতে নয়, নেতাকর্মীদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ একদিনের সরকারি সফরে হেলিকপ্টারযোগে বাগেরহাটের মোংলায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১০ বডিগার্ড নিয়ে আদালতে পরীমনি ব্রাহ্মণপাড়ায় এইচএসসি পরীক্ষায় ঈর্ষণীয় সাফল্য: আনন্দ র‍্যালী ও উল্লাস ভান্ডারিয়ায় ফাজিল পরীক্ষার কেন্দ্র নিয়ে নাটকীয় সিদ্ধান্ত, ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ফের পরিবর্তন; বিপাকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা রাজশাহীতে অতিরিক্ত আইজি সরদার নূরুল আমিনকে স্বাগত জানালেন আরএমপি পুলিশ কমিশনার

সাভার উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে জাল স্বাক্ষরে চাল আত্মসাৎ এর অভিযোগ,

Reporter Name / ৩০ Time View
Update : শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার,সেলিম রেজা
‎
‎একাধিক  মন্দির কমিটির সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে সরকারি চাল উত্তোলন। ভুল স্বীকার করে সাংবাদিকদের কাছে ক্ষমা  চাইলেন সাভার উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক।  সংবাদ প্রকাশ না করতে সাংবাদিকদের অর্থ দিয়ে ম্যানেজ করার ব্যর্ত চেষ্টা।
‎
‎ঢাকার সাভার উপজেলার আশুলিয়ায় দুর্গাপূজার মণ্ডপে সরকারি বরাদ্দের চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে স্বাক্ষর জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সাভার উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, একাধিক  মন্দির কমিটির সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে বরাদ্দের চাল উত্তোলন করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে, এমন কিছু নথিপত্র ইতোমধ্যে  আমাদের বসুন্ধরা হাতে এসেছে।
‎
‎অভিযোগের বিষয়ে ভুক্তভোগী মন্দির কমিটির সভাপতিরা জানিয়েছেন, দুর্গাপূজা উদ্‌যাপনের ব্যস্ততার সুযোগে তাঁদের স্বাক্ষর ছাড়াই বরাদ্দের চাল উত্তোলনের ঘটনা ঘটেছে বলে তাঁরা পরে জানতে পারেন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন তাঁরা।
‎
‎অভিযোগে যেসব মন্দিরের নাম উঠে এসেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে আশুলিয়ার বাইপাইল বসুন্ধরা গুরুদয়াল দুর্গামন্দির এবং শিমুলিয়া নৈহাটি সরকারবাড়ি দুর্গামন্দির, জামগড়া বেড়ন মহামায়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দির ও নরসিংহপুর সার্বজনীন দূর্গা মন্দির। গুরুদয়াল দুর্গামন্দিরের সাধারণ সম্পাদক সম্ভু চন্দ্র সরকার এবং জামগড়া বেড়ন মহামায়া সার্বজনীন দুর্গামন্দিরের সভাপতি প্রদীপ কুমার সহ আরও বেশ কয়েকজনের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
‎
‎
‎ভুক্তভোগী মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক সম্ভু চন্দ্র সরকার ও প্রদীপ কুমার জানান,দুর্গাপূজা চলাকালে তাঁরা মণ্ডপের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছিলেন। এ সময় খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে তাঁদের বরাদ্দের চাল উত্তোলনের জন্য যোগাযোগ করা হয়।
‎
‎তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী,পূজার ব্যস্ততার কারণে তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে চাল উত্তোলন করতে পারবেন না জানিয়ে পূজা শেষে কার্যালয়ে গিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে স্বাক্ষর করে বরাদ্দের চাল নিয়ে আসবেন বলে জানান। তখন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তাঁদের আশ্বস্ত করেছিলেন বলে দাবি করেন তাঁরা।
‎
‎কিন্তু পূজা শেষে বরাদ্দের চাল উত্তোলনের বিষয়ে যোগাযোগ করতে গেলে কার্যালয় থেকে তাঁদের জানানো হয়, নতুন করে স্বাক্ষর দেওয়ার প্রয়োজন নেই। পরে তাঁরা জানতে পারেন, তাঁদের স্বাক্ষর জাল করে চাল উত্তোলন করে বিক্রি করা হয়েছে।
‎
‎মন্দির কমিটির সভাপতিরা বলেন, তাঁদের অনুমতি ছাড়া স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়ে থাকলে তা গুরুতর অনিয়ম। এ ঘটনায় তাঁরা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।
‎
‎অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানতে সাভার উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে গিয়ে কর্মকর্তা মোজাম্মেল হকের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলেএ সময় তিনি প্রথমে বিভিন্ন অজুহাত দেখান। একপর্যায়ে তিনি নিজের ভুল স্বীকার করে সাংবাদিকদের কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা চান এবং ভবিষ্যতে এমন ভুল আর হবে না বলে সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করেন।
‎এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করতে একই কার্যালয়ের একজন সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের অর্থ দিয়ে ম্যানেজ করার আপ্রাণ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।
‎
‎ঘটনার বিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল  ইসলামের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। অবশেষে তার অফিসকক্ষে গিয়েও তাকে পাওয়া সম্ভব হয়নি।
‎
‎সরকারি বরাদ্দের চাল উত্তোলনে স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ সত্য হলে, তা শুধু প্রশাসনিক অনিয়ম নয় প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী আইনগত দায়ও তৈরি হতে পারে। তাই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই এবং সরকারি বরাদ্দের চালের প্রকৃত হিসাব প্রকাশের দাবি উঠেছে।
‎এ ঘটনায় সাভার উপজেলা প্রশাসন, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
‎
‎(পর্ব-১)
‎


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd