হামিদুর রহমান, রাজশাহী জেলাপ্রতিনিধি : রাজশাহীর তানোর উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়নের ধানুরা গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে থাকা ১৮ কাঠা জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে একই গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। জমির মালিকানা দাবি করা পরিবারের অভিযোগ, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ২০ থেকে ২৫ জন লোক নিয়ে এসে জমির পাকা হওয়ার আগেই কাঁচা ধান কেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জমিটি জোরপূর্বক দখলে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (৭ নভেম্বর ২০২৬) ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়নের ধানুরা গ্রামে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ধানুরা গ্রামের নাদের আলীর ছেলেরা—শাহাজান আলী, সাইদুর, সাইফুল ও সাদ্দাম সাজ্জাদ আলী—দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছর ধরে বাড়ির পাশে অবস্থিত ১৮ কাঠা জমি ক্রয়সূত্রে মালিকানা দাবি করে ভোগদখল করে আসছেন। দীর্ঘদিন ধরে তারা ওই জমিতে চাষাবাদসহ বিভিন্ন কৃষিকাজ করে আসছেন।
কিন্তু হঠাৎ শনিবার ভোরে একই গ্রামের আলমগীর হোসেন (পিতা: শুকুর আলী), রাব্বি, সুমন ও আনোয়ারসহ আরও ২০ থেকে ২৫ জন লোক নিয়ে ওই জমিতে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সংঘবদ্ধভাবে জমিতে থাকা কাঁচা ধান কেটে নিয়ে যান। একপর্যায়ে তারা জমিটি জোরপূর্বক নিজেদের দখলে নিয়ে নেন। এ সময় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, ভোররাতে সংঘবদ্ধ লোকজন নিয়ে এসে এমন কর্মকাণ্ড চালানোয় তারা চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। প্রতিপক্ষের লোকজনের হুমকির কারণে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা। এমনকি জীবনের ভয়ে তাৎক্ষণিকভাবে থানায় গিয়ে অভিযোগ করার সাহসও পাননি।
ভুক্তভোগীরা আরও জানান, এর আগেও জমি-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে থানায় অভিযোগ করে কোনো কার্যকর প্রতিকার পাননি বলে তাদের দাবি। এ কারণে এবার তারা থানায় নতুন করে কোনো অভিযোগ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় জমি হারিয়ে তারা চরম হতাশা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।স্থানীয় পর্যায়ে জমি নিয়ে এমন বিরোধ এবং ভোররাতে সংঘবদ্ধভাবে ধান কেটে নেওয়ার অভিযোগ এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। জমিটি ক্রয়সূত্রে কার মালিকানাধীন, জমির প্রকৃত কাগজপত্র কী বলছে এবং কীভাবে সেখানে এমন ঘটনা ঘটল—এসব বিষয় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে।
জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধ থাকলে তা আইনগতভাবে নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন। কোনো পক্ষেরই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে কৃষকের উৎপাদিত ফসল কেটে নিয়ে যাওয়া এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা তাদের দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় ১৮ কাঠা জমি ফিরে পাওয়া, কেটে নেওয়া ধানের ক্ষতিপূরণ এবং নিজেদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।