• শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৯ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
সমাজ পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে নাগেশ্বরী পৌরসভার উন্নয়নে কাজ করতে চাই: এম. মাসুদুর রহমান মাসুদ কালিগঞ্জের ঢেবঢেবী নামাচর জান্নাতুল ফেরদৌস মাদ্রাসায় ১ হাজার ইট উপহার দিলেন (হাজী সোহেল) বেলকুচি উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির ব্যবস্থাপনা কমিটির ফলাফল ঘোষণা, সভাপতি মনিরুল ইসলাম মনি পত্নীতলায় বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের মাসিক সভা ও আলোচনা অনুষ্ঠিত পাঁচবিবি সীমান্তে ১৬০ বোতল ভারতীয় উইনক্রিক্স কফ সিরাপ আটক নরসিংদীতে জনস্বার্থে মোবাইল কোর্ট রাজাপুরে ৮ পরিবারের বসতভিটা রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন ধামইরহাটে ১২ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ আটক ১ আদমদীঘিতে সাইবার সুরক্ষা মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গ্রেফতার! মাগুরা মঘি ইউনিয়ন বড়খড়ি সড়কের নির্মাণ কাজে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলেতথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের উপর অতর্কিত হামলা,

সাংবাদিক শফিকের মুক্তি না দিলে শাহবাগ থানা, ফায়ার সার্ভিস ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি

Reporter Name / ৩০৫ Time View
Update : বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬

মোঃ শাহজাহান বাশার
অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে সাংবাদিক হাফিজুর রহমান শফিককে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে তাঁর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছেন সাংবাদিক নেতারা। আগামীকালের মধ্যে তাঁকে মুক্তি না দিলে শাহবাগ থানা, ফায়ার সার্ভিস ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন তাঁরা।

বুধবার ২২ জুলাই রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সাধারণ সাংবাদিক সমাজের আয়োজিত এক মানববন্ধনে এসব কথা বলেন সাংবাদিক নেতারা।

মানববন্ধনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক এরফানুল হক নাহিদ বলেন, শাহবাগ থানার ওসি যে মামলা নিয়েছেন, সেটি রক্ষা করতে পারবেন কি না, তা ভেবে দেখা উচিত ছিল। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, কোন আইনে মামলাটি নেওয়া হয়েছে এবং সেটি কোনো চাপে করা হয়েছে কি না, সেটিও জানতে চান।

পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে এরফানুল হক নাহিদ বলেন, অতি উৎসাহী আচরণ না করে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত ছিল। তাঁর ভাষ্য, বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে তদন্ত হয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এলে তখন গ্রেপ্তার করা যেত।

তিনি বলেন, তাঁরা কোনো অন্যায়ের প্রশ্রয় দিচ্ছেন না। হাফিজুর রহমান শফিক একজন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য পরিচিত সাংবাদিক। তাঁর প্রতিবেদনের সঙ্গে কারও দ্বিমত থাকলে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমে জবাব দেওয়া বা আদালতে মানহানির মামলা করার সুযোগ ছিল। থানায় মামলা করার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের আগের পরিস্থিতি ভেবে কেউ যেন অন্যায় না করেন।

শাহবাগ থানার ওসি ও গ্রেপ্তারে জড়িত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে হবে। অন্যথায় তাঁদের প্রত্যাহারের দাবি তোলা হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সাংবাদিক নির্যাতনের আগে ২৪–এর আন্দোলনের আত্মত্যাগ স্মরণ রাখা উচিত।

এরফানুল হক নাহিদ আরও বলেন, ফায়ার সার্ভিসকে নিয়ে অতীতে নানা সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে প্রশাসনে যারা দায়িত্বে আছেন, তাঁদের মাথা ঠান্ডা রেখে সাংবাদিক সমাজকে উসকানি না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, আগামীকালের মধ্যে হাফিজুর রহমান শফিককে মুক্তি দিতে হবে। অন্যথায় শাহবাগ থানা, ফায়ার সার্ভিস ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও করা হবে।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম দিদার বলেন, অধিকার রক্ষা ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনের পরীক্ষিত সংবাদকর্মী হাফিজুর রহমান শফিককে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দিদারুল আলম দিদার বলেন, অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে মামলা করার উপাদান আছে—এ কথা শাহবাগ থানার ওসিকে কে বলেছেন, সেটি জানতে চান তিনি।

তিনি বলেন, গত দেড় দশক ধরে তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন ও সাইবার নিরাপত্তা আইনের বিরুদ্ধে সাংবাদিক সংগঠনগুলো গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন করেছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আবারও সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনা তাঁরা কল্পনাও করেননি।

দিদারুল আলম দিদারের অভিযোগ, এ ঘটনা প্রমাণ করে সিভিল ডিফেন্স ও পুলিশের মধ্যে এখনো ফ্যাসিবাদের প্রেতাত্মারা রয়েছে। তিনি তথ্যমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, যারা মামলা করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে যে প্রতিবেদনের কারণে শফিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেই প্রতিবেদনে যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে, তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

তিনি অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার করে হাফিজুর রহমান শফিকের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন। অন্যথায় সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠনগুলো আরও তীব্র কর্মসূচি দেবে বলেও জানান।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সঠিক সংবাদ প্রকাশ করতে হলে মাঠপর্যায়ে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে হয়। কিন্তু বর্তমানে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে সামান্য ঘটনাতেই মানুষকে মারধর, নির্যাতন ও মিথ্যা মামলার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। অপরাধ করলে বিচার হবে, তবে নিরপরাধ কাউকে মব সৃষ্টি করে হয়রানি বা মিথ্যা মামলায় জড়ানো কাম্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তাঁরা।

বক্তারা আরও বলেন, সাংবাদিকদের বাঁচাতে হলে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকেও টিকিয়ে রাখতে হবে।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের কাউন্সিলর ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য মোহাম্মদ মাসুদ এর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের নির্বাহী কমিটির সদস্য  নিজামুদ্দিন দরবেশ, রাজু আহমেদ, তালুকদার রুমি, ফখরুল ইসলাম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক নির্বাহী কমিটির সদস্য এইচএম আল-আমিন, জুলাই যোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য তাপস, রাসেল, জিয়াউর রহমান, বিএফইউজের  কাউন্সিলর নুরুল আবছার, ডিইউজের সদস্য আকাশ মনি সহ প্রমুখ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd