দক্ষিণ সুরমা প্রতিনিধিঃ
স্থানীয় প্রশাসন – মিডিয়া সহ সবার জানা দরকার জাল সেলিমের ইতিহাস
সিলেট সিটি করপোরেশনের এক চতুর কর্মকর্তা মো. সেলিম মিয়ার কথা। যিনি সিসিকের প্রভাব খাটিয়ে নানান বিধি বহির্ভূত কর্মকান্ডে জড়িয়ে আলোচিত-সমালোচিত। অবৈধ উপার্জন করে বর্তমানে তিনি “আঙুল ফুলে কলাগাছ”। বর্তমানে সিসিকের প্রকৌশলী শাখার প্রতিটি টেবিলে তাকে নিয়েই সমালোচনা। আজ সিসিকের কিছু অসাধু কর্মকর্তার কারণে টাকার কাছে হেরে যাচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা। জিতে যাচ্ছে সেলিম মিয়ার মতো প্রতারক!
সেলিম মিয়াকে নিয়ে অনুসন্ধানে নামে দৈনিক সুরমার ডাক – New Edition
অনুসন্ধানে মিলেছে তার বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
সেলিম মিয়া ক্লাস এইট পাশ। সিসিকের দুর্নীতিবাজ কিছু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে সেলিম মিয়া যোগ্যতা ছাড়াই ব্লক পোস্ট “ট্রেসার” পদ থেকে কার্য সহকারী পদ, পরে উপ সহকারী প্রকৌশলী পদ বাগিয়ে নিয়েছেন। এখন মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে টার্গেট সিসিকের সহকারী প্রকৌশলী পদ!
দুর্নীতিবাজ কিছু কর্মকর্তার কারনে আজ প্রশ্নবিদ্ধ সিলেট সিটি করপোরেশন। যারা সেলিম মিয়ার মতো প্রতারক ব্যক্তিদের জাল সনদ এবং শিক্ষাগত যোগ্যতাকে প্রাধান্য না দিয়ে টাকাকে মুল্যায়ন করছেন!
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিলেট সিটি কর্পোরেশনে প্রায় দেড় যুগ আগে ‘জাল সনদ’ এবং ভুয়া শিক্ষাগত যোগ্যতার কাগজাদি ব্যবহার করে “ট্রেসার” পদে চাকরি নেন মো. সেলিম মিয়া।
সিসিকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চাকরি বিধিমালা ২০০৮ এর খসড়া অনুযায়ী “ট্রেসার” পদ একটি ব্লক পোস্ট। এই পদে কোনো পদোন্নতি নেই।
সেলিম মিয়া ট্রেসার পদে চাকরিতে যোগদানের কয়েক মাস পর সিসিকের এক উর্ধতন কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে সেই সময়ে কাজ করেন কার্য সহকারী পদে। অথচ সিসিকের বিধিমালা অনুযায়ী এই পদে সিসিকে চাকরি নিতে হলে অনার্স অথবা ডিগ্রি পাশ হতে হয়!
#নোট : সেলিম মিয়া অনার্স অথবা ডিগ্রি পাশ করেন নি!
এরপর আর সেলিম মিয়াকে পিছনে তাকাতে হয়নি। সিস্টেম পেয়ে যান অবৈধ উপার্জনের। তার আওতাধীন ওয়ার্ডের বিভিন্ন কাজে অনিয়ম দুর্নীতি শুরু করেন।
দুর্নীতির এসব টাকায় সেই উর্ধতন কর্মকর্তাকে সেলিম মিয়া ম্যানেজ করে ২০১৮ সালে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সিসিকের বিধিমালা আবার উপেক্ষা করে পদোন্নতি নিয়ে বনে যান সিসিকের একজন উপ সহকারী প্রকৌশলী!
বিধিমালা অনুযায়ী সিসিকের একজন উপ সহকারী প্রকৌশলী হতে হলে ডিপ্লোমা ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং সনদ দিতে হয়!
#নোট : সেলিম মিয়া ডিপ্লোমা ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করেন নি!
জানা গেছে, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে চতুর সেলিম মিয়া এবার সিসিকে জাল সনদ ও শিক্ষাগত যোগ্যতার ভুয়া কাগজ দিয়ে উপ সহকারী প্রকৌশলী থেকে সহকারী প্রকৌশলী প্রমোশনের জন্য লবিং চালাচ্ছেন। এ দৌড়ে সেলিম মিয়া সবচেয়ে এগিয়ে!
#নোট : একজন সহকারী প্রকৌশলী হতে হলে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং সনদ দরকার হয়। সেলিম মিয়ার তাও নেই।
বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে সিসিকে!
অভিযোগ অনুযায়ী, জাল সনদ এবং ভুয়া শিক্ষাগত যোগ্যতার কাগজ ব্যবহার করে তিনি গুরুত্বপূর্ণ এসকর পদে কিভাবে নিয়োগ পান।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর প্রশাসনিক তদন্তের দাবি উঠেছে। সিসিকের কাছে সিলেটবাসীর প্রশ্ন- যাচাই-বাছাই ছাড়া কিভাবে এমন নিয়োগ সম্ভব?
বি:দ্র : আমরা জাল সেলিমের খুঁটির জোর কোথায় সেই পর্যন্তই যাবো।
ছবি : প্রতীকী। ইনসেট সেলিম মিয়া।