• মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৮ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
ভাণ্ডারিয়ায় বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করলেন প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মনজুর ওয়ারিশ সূত্রে পৈত্রিক সম্পত্তির দাবি, ভোগদখল না পাওয়ার অভিযোগ জাহাঙ্গীর ভূঁইয়ার প্রবীণ সাংবাদিক সাইদুর রহমানের মৃত্যুতে রাজশাহী মডেল প্রেসক্লাবের গভীর শোক জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহারের দাবি ছাত্র ফেডারেশন নেতার শিশু নিরাপত্তা: নিখোঁজের পর মরদেহ, আর কত অপেক্ষা? তানোরে ১০ বছরের শিশুকে ধ/র্ষ/ণে/র চেষ্টার অভিযোগ, ৬৫ বছরের বৃদ্ধ গ্রে/প্তা/র রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজির সঙ্গে ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ পিরোজপুরে স্বেচ্ছাশ্রমে বিএনপির পরিচ্ছন্নতা অভিযান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে লিফলেট বিতরণ রাজাপুরে প্রথমবার মাদকবিরোধী মিনি ম্যারাথন অনুষ্ঠিত নজরুল বর্ষ উপলক্ষে কুড়িগ্রামে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

সামাজিক ইসলাম কখনো পতন হয় না, কিন্তু ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনৈতিক ইসলাম কেন প্রশ্নবিদ্ধ

Reporter Name / ২৭৪ Time View
Update : রবিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬

মোঃ শাহজাহান বাশার ,সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার

সামাজিক ইসলাম কখনো পতনের শিকার হয় না, কারণ এটি মানুষের চরিত্র, আচরণ, পারিবারিক বন্ধন ও দৈনন্দিন জীবনচর্চার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। সামাজিক ইসলাম কোনো ক্ষমতা বা রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং এটি মানুষের নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ, আল্লাহভীতি এবং প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)–এর প্রতি ভালোবাসার মাধ্যমে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে টিকে আছে। মিলাদ, কিয়াম এবং আল্লাহর ওলীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মতো সামাজিক আমলগুলো মানুষের জীবনচর্চায় ইসলামের উপস্থিতিকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। এই কারণেই সামাজিক ইসলামের শক্তি আসে নিচ থেকে—মানুষের বিশ্বাস ও আচরণ থেকে—এবং তাই সামাজিক ইসলাম কখনো বিলুপ্ত হয় না।

কিন্তু গণতান্ত্রিক বা ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনৈতিক ইসলামের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, রাজনৈতিক কাঠামোর উত্থান-পতন অনিবার্য। যখন কোনো রাজনৈতিক ইসলামি ব্যবস্থার পতন ঘটে, তখন তার প্রভাব অনেক সময় সরাসরি সাধারণ মুসলমানদের ঈমান ও মানসিকতার ওপর গিয়ে পড়ে। রাজনৈতিক ব্যর্থতা, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও আপসের দায় তখন দ্বীনের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। ফলে দাওয়াতের পথ সংকুচিত হয়ে যায়, বিভ্রান্তি বাড়ে এবং অনেক মানুষের মনে ইসলামের ব্যাপারে বিরক্তি ও সন্দেহ জন্ম নেয়।

এই বাস্তবতা থেকেই বোঝা যায়, ক্ষমতাকেন্দ্রিক ও হাইব্রিড ইসলামিক রাজনৈতিক ব্যবস্থাগুলো ইসলামের জন্য দীর্ঘমেয়াদে কল্যাণকর নয়। ইসলাম টিকে থাকে নীতি, আখলাক, সত্যবাদিতা, তাকওয়া ও দাওয়াতের শক্তিতে—কোনো রাজনৈতিক ক্ষমতার জোরে নয়। বাস্তবে দেখা যায়, রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের ভুল সিদ্ধান্ত ও আদর্শিক ব্যর্থতা আড়াল করতে গিয়ে অনেক সময় ইসলামের নামকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে।

এর সবচেয়ে ভয়াবহ পরিণতি হলো—মানুষ ধীরে ধীরে রাজনীতির ব্যর্থতাকেই ইসলাম হিসেবে ভাবতে শুরু করে। এতে ইসলামের বিরুদ্ধে অকারণ ক্ষোভ তৈরি হয়, দাওয়াত দুর্বল হয়ে পড়ে এবং একটি প্রজন্ম দ্বীনের প্রকৃত সৌন্দর্য থেকে দূরে সরে যেতে থাকে। ইসলামের ক্ষতি তখন সরাসরি রাজনীতি থেকে নয়, বরং রাজনীতির সঙ্গে ইসলামের নাম অযথা জড়িয়ে দেওয়ার ফলেই ঘটে।

যেখানে নবী (সা.)–এর প্রতি অসম্মান এবং আল্লাহর ওলীদের প্রতি অবজ্ঞা করা হয়, সেখানে আল্লাহর সন্তুষ্টি থাকে না। এই কারণেই স্পষ্টভাবে বলা যায়—ইসলামের প্রকৃত শক্তি সামাজিক ও নৈতিক ভিত্তিতে, ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনৈতিক কাঠামোয় নয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd