• রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪১ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
মাগুরায় নজরুল বর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে উপজেলা পর্যায়ে সেমিনার ও পুরস্থার বিতরণ অনুষ্ঠান নওগাঁর পত্নীতলায় ১৫০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ একজন গ্রেপ্তার সংবাদ প্রকাশের পর আদমদীঘিতে পরিবেশ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে বুশরা, বৈশাখীসহ ১৩ চালকলকে শোকজ মাগুরা জেলায় মোহাম্মদপুর উপজেলায় ইট ভাটার পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তিনটির ভাটায় জরিমান কালিয়াকৈরে প্রিমিয়াম লীগ ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয় কচাকাটায় সোনালী ব্যাংক পিএলসি শাখা বাস্তবায়নের দাবিতে গণস্বাক্ষর কর্মসূচী অনুষ্ঠিত বাঁশখালীতে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানো সংগঠন ও মানবতার ফেরিওয়ালাদের সংবর্ধনা দেবে প্রবাসী মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশন আসন্ন নাগেশ্বরী পৌরসভায় কে হচ্ছেন পরবর্তী মেয়র? নাগেশ্বরী অনলাইন প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে জমজমাট ফুটবল ফাইনাল ফকিরহাট কেন্দ্রীয় কালীমন্দিরে সম্প্রীতির সমাবেশ অনুষ্ঠিত

সাংবাদিকতার শক্তি: সত্য, জবাবদিহিতা ও জনস্বার্থের অঙ্গীকার

Reporter Name / ১২২ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬

মোঃ শাহজাহান বাশার,সাংবাদিক ও কলামিস্ট

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি হলো স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক সাংবাদিকতা। রাষ্ট্রের আইনসভা, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগের পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমকে দীর্ঘদিন ধরেই “চতুর্থ স্তম্ভ” হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ সংবাদমাধ্যম কেবল তথ্য পরিবেশন করে না; এটি রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যে একটি কার্যকর সেতুবন্ধন তৈরি করে, জনমত গঠন করে এবং ক্ষমতার ব্যবহারের ওপর সামাজিক নজরদারি নিশ্চিত করে।

সাংবাদিকতার মূল শক্তি প্রযুক্তিতে নয়, বিশ্বাসযোগ্যতায়। একটি সমাজ তখনই সুস্থ থাকে, যখন মানুষ সংবাদমাধ্যমের ওপর আস্থা রাখতে পারে। সেই আস্থা অর্জিত হয় নির্ভুল তথ্য, বস্তুনিষ্ঠ উপস্থাপন, নৈতিক মানদণ্ডের প্রতি আনুগত্য এবং জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার মাধ্যমে। সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়োর চেয়ে সত্যতা যাচাই অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একটি ভুল সংবাদ যেমন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা রাষ্ট্রের ক্ষতির কারণ হতে পারে, তেমনি একটি সঠিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার উন্মোচন করে ইতিবাচক পরিবর্তনের পথও তৈরি করতে পারে।

ডিজিটাল যুগে সাংবাদিকতার পরিসর যেমন বিস্তৃত হয়েছে, তেমনি বেড়েছে নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দ্রুত বিস্তার তথ্যপ্রবাহকে সহজ করেছে, কিন্তু একই সঙ্গে ভুয়া তথ্য, অপপ্রচার এবং বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের বিস্তারও উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাইহীন তথ্য মুহূর্তের মধ্যে লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, যা সামাজিক অস্থিরতা, বিভ্রান্তি কিংবা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সুনামের অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হতে পারে। এই বাস্তবতায় পেশাদার সাংবাদিকতার গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।

একজন সাংবাদিকের প্রথম আনুগত্য হওয়া উচিত সত্য ও জনগণের প্রতি। ব্যক্তি, গোষ্ঠী, রাজনৈতিক মতাদর্শ কিংবা আর্থিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে তথ্য অনুসন্ধান ও উপস্থাপনই একজন পেশাদার সাংবাদিকের পরিচয়। সংবাদমাধ্যম যদি কোনো ধরনের অযাচিত প্রভাব বা চাপের কাছে নতি স্বীকার করে, তবে শুধু সাংবাদিকতার বিশ্বাসযোগ্যতাই ক্ষুণ্ন হয় না; ক্ষতিগ্রস্ত হয় জনগণের তথ্য জানার সাংবিধানিক অধিকারও।

তবে সাংবাদিকতার স্বাধীনতার সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে দায়িত্ববোধ। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কখনোই মিথ্যা, মানহানিকর বা বিদ্বেষমূলক তথ্য প্রচারের অবাধ সুযোগ হতে পারে না। তথ্য যাচাই, একাধিক সূত্রের ওপর নির্ভরতা, অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং নৈতিক মানদণ্ড অনুসরণ—এসবই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মৌলিক শর্ত। স্বাধীনতা ও জবাবদিহিতার এই ভারসাম্যই সংবাদমাধ্যমের প্রকৃত শক্তি।

বাংলাদেশে সাংবাদিকতা আজ নানা বাস্তব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, কর্মপরিবেশের সীমাবদ্ধতা, পেশাগত নিরাপত্তা এবং দক্ষতা উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা—সব মিলিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করাও সময়ের দাবি। একটি সুস্থ গণতন্ত্রে স্বাধীন সাংবাদিকতা কোনো বিলাসিতা নয়; এটি রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা ও সুশাসনের অপরিহার্য শর্ত।

সাংবাদিকদেরও আত্মসমালোচনার সুযোগ রয়েছে। পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, তথ্যপ্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো, তথ্য যাচাইয়ের আধুনিক পদ্ধতি আয়ত্ত করা এবং নৈতিকতার প্রশ্নে আপসহীন থাকা—এসব বিষয়ে আরও মনোযোগী হওয়া জরুরি। কারণ সংবাদমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা একদিনে তৈরি হয় না; এটি দীর্ঘদিনের সততা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের ফল।

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, সত্যকে সাময়িকভাবে চাপা দেওয়া সম্ভব হলেও স্থায়ীভাবে দমন করা যায় না। একটি সৎ ও নির্ভীক সংবাদ অনেক সময় সমাজে এমন পরিবর্তনের সূচনা করে, যা দীর্ঘমেয়াদে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ কারণেই সাংবাদিকতার প্রকৃত শক্তি ক্ষমতার নৈকট্যে নয়; বরং সত্যের প্রতি অবিচল অঙ্গীকারে।

রাষ্ট্র, সংবাদমাধ্যম এবং নাগরিক সমাজ—তিন পক্ষের সম্মিলিত দায়িত্ব হলো এমন একটি পরিবেশ গড়ে তোলা, যেখানে সাংবাদিকরা ভয় বা প্রভাবমুক্তভাবে কাজ করতে পারবেন এবং একই সঙ্গে সর্বোচ্চ পেশাগত নৈতিকতা বজায় রাখবেন। কারণ স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও বিশ্বাসযোগ্য সাংবাদিকতা শুধু একটি পেশার প্রয়োজন নয়; এটি একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র নির্মাণের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd