মো. শাহজাহান বাশার,
সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
পোড়া চোখে অশ্রুর ছায়া, বৃদ্ধাশ্রমের ছাদে চেয়ে,
প্রশ্ন করে এক অধ্যাপক—
“আমি কি মানুষ বানাইনি ওদের পেয়ে?”
ডিগ্রির ভারে নুইয়ে পড়া, মনুষ্যত্ব আজ হেরে যায়,
নতুন জগত, চকচকে জীবন—
পিতার স্বপ্ন কোথায় হারায়?
বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রদ্ধেয় গুরু, এক সময়ের আলোদাতা,
আজ আগারগাঁওয়ের এক কোণে,
শূন্য চোখে বসে আছেন, সমাজের দেওয়া “জঞ্জালতা”।
নেই পাশে সন্তান তিনটি, নেই কাঁধে স্নেহের হাত,
তিন দশকের সঞ্চিত স্বপ্ন
ভেসে গেল কৌশলের হঠাৎস্মৃতিহীন পাত।
বড় ছেলে, একদিনের আকাশ-জয়ী,
আজ বাবার জীবনটাকেই বিক্রি করে দেয় নির্ভার হই।
ফ্ল্যাট, জমি, স্বপ্নের ভিটা,
নাম কেটে নেয় নিজের খাতায়—
পিতার ঘামে গড়া দিনগুলো
ঝরে পড়ে নিষ্ঠুরতায়।
ছোট ছেলে সাগরপারে, একদিন ফিরে এসে বলে—
“বাবা, আমার বিয়ে ঠিক হয়েছে।”
তবু বাবার চোখের প্রশ্নে থাকে—
“তুমি কি জানাতে পারতে না আগে?”
বউকে দেখতে চায়,
জবাব আসে—
“সময় নেই… দেখা যাবে না… ফিরে যাও চুপচাপ।”
বাবা তখন দেয়ালে মাথা রাখে।
বুক ভেঙে বলে—
“এই ছেলের জন্য পেনশনের টাকা থেকে ছাব্বিশ লাখ পাঠিয়েছি…
তবু আজ সে ফোনটিও করে না।
ইমেইলে মাঝে মাঝে চিঠি লেখে—
সেখানে কোথাও ভালোবাসা থাকে না।”
হায়! এ কেমন শিক্ষা, কেমন আলোক, কেমন সভ্যতা?
যে জ্ঞান সম্পর্ক ভোলে, সে কি তবে আসল প্রজ্ঞা?
তবু দেখি—
অশিক্ষিত, দরিদ্র, মাটি-ছোঁয়া মানুষজন,
তাদের ঘরে বৃদ্ধ বাবা-মা
রান্নার পাশে, পিঁড়িতে, আশ্রয়ে বাঁচে শ্রদ্ধার মতো।
তারা কি তবে আমাদের মতো
মুখোশধারী শিক্ষিতের চেয়ে ভালো নয়?
তাই বলি—
শিক্ষা যদি হৃদয় না জাগায়,
তবে সে শিক্ষা অভিশাপ—
যা একদিন ডিগ্রির শিরোনামে মুখ ঢাকে।
মানুষ হবার আগে
মানুষ হও শেখো,
ডিগ্রির আগে হৃদয়ের আলোয়
একটু পথ দেখো।