মোঃ শাহজাহান বাশার,
স্টাফ রিপোর্টার:
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও গ্যাসের অপব্যবহার রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৩ জুলাই ২০২৫ (রবিবার) ঢাকা বিভাগের নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ ও সোনারগাঁয়ে পৃথক দুটি বড় পরিসরের অভিযান পরিচালনা করে প্রতিষ্ঠানটি।
তিতাস গ্যাসের জয়দেবপুর আঞ্চলিক বিক্রয় বিভাগের আওতাধীন দাউদপুর, রূপগঞ্জ এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈকত রায়হান, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে আনুমানিক ৪০০টি বাড়িতে ব্যবহৃত ৫০০টি অবৈধ আবাসিক ডাবল চুলার গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এ সময় ২ ইঞ্চি ব্যাসের প্রায় ১,০০০ ফুট লাইন পাইপ এবং ১/২ ইঞ্চি ব্যাসের আরও প্রায় ৩০০ ফুট হোস পাইপ অপসারণ ও জব্দ করা হয়।
অপরদিকে, একই দিনে সোনারগাঁও উপজেলার পিরোজপুর এলাকায় তিনটি স্পটে পৃথক অভিযান পরিচালনা করেন সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাসিবুর রহমান। অভিযানে সোনারগাঁও ইকোনোমিক জোন সংলগ্ন এলাকার তিনটি অবৈধ চুনা কারখানার গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। সেখানে ১.৫ ইঞ্চি ব্যাসের আনুমানিক ১২০ ফুট লাইন পাইপ অপসারণ/জব্দ করা হয় এবং উৎসস্থলে থাকা ১.৫ ইঞ্চি পিভিসি পাইপ বিনষ্ট করা হয়।
চুনা ভাটার দাহ্য উপকরণ ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় পানি স্প্রে করে নষ্ট করা হয় এবং এক্সকেভেটরের মাধ্যমে কারখানাগুলোর কাঠামো ও মালামাল গুড়িয়ে দেওয়া হয়। প্রতিটি অবৈধ বিতরণ লাইন উৎস পয়েন্ট থেকে কিলিং ও ক্যাপিং করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ১৩ জুলাই পর্যন্ত পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানে ২৭৪টি শিল্প, ২৭৩টি বাণিজ্যিক ও ৪৬,৬১৯টি আবাসিক সংযোগসহ মোট ৪৭,১৬৬টি অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এ সময় ১,০০,৬৬৭টি বার্নার অপসারণ এবং ১৯৩ কিলোমিটার অবৈধ গ্যাস পাইপলাইন ধ্বংস বা জব্দ করা হয়েছে।
তিতাস গ্যাসের মিডিয়া ও জনসংযোগ বিভাগের ব্যবস্থাপক মো. আল আমিন এক স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গ্যাসের অপচয় রোধ এবং নিরাপদ সরবরাহ নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। অবৈধভাবে সংযোগ নিয়ে গ্যাস ব্যবহারকারীদের প্রতি তিনি সতর্কবার্তা দেন এবং সবাইকে বৈধ সংযোগ গ্রহণে উৎসাহিত করেন।