হামিদুর রহমান, তানোর রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর তানোর উপজেলায় র্যাব-৫ এর বিশেষ অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তলসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) গভীর রাতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, ২৮ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিট থেকে ১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত র্যাব-৫, রাজশাহী সদর কোম্পানির একটি বিশেষ অপারেশন দল তানোর উপজেলার পৃথক তিনটি স্থানে একযোগে অভিযান চালায়।
অভিযানকালে তানোর উপজেলার চুনিয়াপাড়া গ্রামের এন্তাজ আলীর বসতবাড়ির পশ্চিম পাশে অবস্থিত গরু রাখার গোয়ালঘরের পেছনে রান্নার লাকড়ির নিচ থেকে, একই এলাকার আব্দুস সোবাহানের বসতবাড়ির উত্তর পাশে খড়ি রাখার ঘরের খড়ির নিচ থেকে এবং জয়নাল নামের অপর এক ব্যক্তির বসতবাড়ির উত্তর পাশে খড়ি রাখার ঘরের খড়ির নিচ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় এসব অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।

র্যাবের প্রাথমিক তালিকা অনুযায়ী উদ্ধারকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে
একটি কাঠের হাতলযুক্ত বিদেশি পিস্তল, যার গায়ে ইংরেজিতে ‘MADE IN USA 7.0-5 MM’ লেখা রয়েছে। এছাড়া ২টি সিলভার রঙের খালি ম্যাগাজিন, ৫ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, ১২টি শর্টগানের গুলি, ৪টি পাইপগান এবং ৬টি চিকন পাইপসহ অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন খুচরা যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়।
র্যাব আরও জানায়, উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের বিষয়ে স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও তারা এসব অস্ত্রের মালিকানা বা সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেনি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে এসব অস্ত্র সেখানে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল এবং কোনো অপরাধী চক্র এগুলো ব্যবহারের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
এ ঘটনায় র্যাব-৫ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ আইনানুগ প্রক্রিয়ায় জব্দ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়েরসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পাশাপাশি অস্ত্রগুলোর উৎস ও সংশ্লিষ্ট অপরাধী চক্র চিহ্নিত করতে তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গভীর রাতে হঠাৎ র্যাবের অভিযান এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হলেও পরবর্তীতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের খবর জানাজানি হলে স্বস্তি ফিরে আসে। তারা এলাকায় অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানান।
র্যাব-৫ জানিয়েছে, অবৈধ অস্ত্র ও সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমে তাদের গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।