হামিদুর রহমান আনো রাজশাহী প্রতিনিধি :
রাজশাহীর তানোর উপজেলায় যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক মহান মে দিবস ও জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য এবং সেফটি দিবস। এ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১ মে) সকাল ১১টায় তানোর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা পরিষদ প্রশাসক নাঈমা খান।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাজশাহী-১ (তানোর–গোদাগাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা গেলে দেশ টেকসই উন্নয়নের পথে আরও এগিয়ে যাবে। এ লক্ষ্য অর্জনে শ্রমিক, মালিক এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাজশাহী জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আব্দুল খালেক এবং তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মাসুদ পারভেজ।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন তানোর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আলমগীর হোসেন, জামায়াতের সিনিয়র নেতা ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম মোল্লা, তানোর পৌর বিএনপির আহ্বায়ক একরাম আলী মোল্লা, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুল কাদের, তানোর উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি কাজী আফজাল, তানোর পৌর জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
এর আগে সকালে তানোর উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি তানোর থানা মোড় থেকে শুরু হয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামের সামনে আরেকটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি কাজী আফজালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায়ও প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি। এতে রাজশাহী জেলা ও তানোর উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
আলোচনা সভাগুলোতে বক্তারা শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং শ্রমিক কল্যাণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি হলো শ্রমজীবী মানুষ। তাই তাদের সুরক্ষা, মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
অনুষ্ঠানগুলো শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয় এবং শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।