হামিদুর রহমান, তানোর রাজশাহী প্রতিনিধি :
জাতীয় সংসদে মানবসৃষ্ট আইন বাতিল করে পবিত্র কোরআনের আইন প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান। বুধবার সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ বক্তব্য দেন।
সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, দেশে প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য আল্লাহর আইন কার্যকর করা অপরিহার্য। তার ভাষায়,আমরা আল্লাহর আইন চাই। মানুষের তৈরি আইনের কবর রচনা করে কোরআনের আইন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। মুজিবুর রহমান তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান আইনব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য তিনি ইসলামী আইন বা শরিয়াহভিত্তিক শাসনব্যবস্থা প্রবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি মনে করেন, কোরআনভিত্তিক আইন কার্যকর হলে সমাজে ন্যায়, সমতা ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা সহজতর হবে। বিএনপির প্রতি আহ্বান
বক্তব্যে তিনি খালেদা জিয়া নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি শরিয়তের বিরুদ্ধে কোনো আইন প্রণয়ন করবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেই প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বিএনপির প্রতি আহ্বান জানান— আল্লাহর আইনের বিরোধিতা না করে ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে সহযোগিতা করতে।
“ইসলামী বোর্ড” গঠনের প্রস্তাব
ইসলামী আইন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি বিশেষ বোর্ড গঠনের প্রস্তাবও দেন তিনি। প্রস্তাব অনুযায়ী—
মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিত সংসদ সদস্যরা থাকবেন
বিভিন্ন মাজহাবের আলেমদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে
বোর্ডটি ইসলামী আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সরকারকে পরামর্শ দেবে তার মতে, এই বোর্ড দেশের আইনব্যবস্থাকে ইসলামী নীতিমালার আলোকে পরিচালনার পথনির্দেশনা প্রদান করতে সক্ষম হবে। রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা
মুজিবুর রহমানের এ বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন মহলে এ বিষয়ে ভিন্নমত লক্ষ্য করা যাচ্ছে।একদল এটিকে ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন অন্যরা রাষ্ট্রের বিদ্যমান সংবিধান ও আইনি কাঠামোর সঙ্গে এর সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এমন প্রস্তাব বাস্তবায়ন করতে হলে দেশের সংবিধান, বিদ্যমান আইন এবং রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন হতে পারে। তারা মনে করছেন—
বিষয়টি সহজে বাস্তবায়নযোগ্য নয়
এটি দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষতা বনাম ধর্মভিত্তিক আইনব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে
সংসদে উত্থাপিত এই প্রস্তাব ইতোমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রার বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আগামী দিনে এ নিয়ে রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে আলোচনা আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাষ্ট্রের আইনব্যবস্থার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।