হামিদুর রহমান,
রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি :
রাজশাহীর চারঘাটে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ২০০ বোতল কোডিনযুক্ত অবৈধ ESkuf সিরাপ ও একটি মোটরসাইকেলসহ দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে রাজশাহী জেলা ডিবি পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট ২০২৬) ভোরে চারঘাট থানাধীন খোর্দ্দগোবিন্দপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—চারঘাট উপজেলার খোর্দ্দগোবিন্দপুর গ্রামের মৃত লাবলুর ছেলে মো. পলাশ (২৩) এবং একই উপজেলার ঝিকরা (উত্তরপাড়া) গ্রামের জমির মিয়ার ছেলে মো. জনি (২৩)।
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা ৩৫ মিনিটে রাজশাহী জেলা ডিবির এসআই (নিরস্ত্র) মো. আশাফুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্সসহ চারঘাট থানাধীন পল্লী বিদ্যুৎ মোড় ও আশপাশের এলাকায় মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযানে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, চারঘাটের খোর্দ্দগোবিন্দপুর গ্রামে মো. পলাশের আধাপাকা টিনশেড বসতবাড়ির উঠানে কয়েকজন ব্যক্তি অবৈধ মাদকদ্রব্য বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে।
সংবাদের সত্যতা যাচাই করে ডিবি পুলিশের দলটি ভোর ৫টা ৪০ মিনিটে ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখানে থাকা অভিযুক্তরা পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় পলাশ ও জনি একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন নীল রঙের TVS Metro Plus মোটরসাইকেল নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে ডিবি পুলিশ তাদের আটক করে।
পরে তাদের হেফাজতে থাকা একটি খাকি রঙের কাগজের কার্টুন তল্লাশি করে কোডিনযুক্ত অবৈধ মাদকদ্রব্য ২০০ বোতল ESkuf সিরাপ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত রেজিস্ট্রেশনবিহীন নীল রঙের মোটরসাইকেলটিও জব্দ করা হয়েছে।
আরও দুই সহযোগী পালিয়ে যায়
ডিবি পুলিশের অভিযানের সময় কথিত আরও দুই সহযোগী ঘটনাস্থল থেকে কৌশলে পালিয়ে যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে। তারা হলেন—চারঘাট থানার ঝিকরা জোয়ার্দ্দারপাড়া গ্রামের নকিম উদ্দিনের ছেলে মো. সম্রাট ইসলাম (৩০) এবং খোর্দ্দগোবিন্দপুর গ্রামের আলান মল্লিকের ছেলে মো. তুষার আহমেদ (২৯)।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার পলাশ, জনি এবং পলাতক সম্রাট ইসলামের বিরুদ্ধে রাজশাহী জেলার বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা
উদ্ধার করা অবৈধ ESkuf সিরাপের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুইজন এবং পলাতক দুইজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় চারঘাট মডেল থানায় মামলা করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রাজশাহী জেলা ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মাদক ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে তাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে।