• বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
ওসমানী মেডিকেলে দালাল চক্রের ৪ সদস্যকে কারাদণ্ড তানোরে পৈত্রিক জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ, দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ঢাকা সিএমএম আদালতে মামলার চাপ, বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি ভাণ্ডারিয়ায় পোনা নদীতে ডুবে বৃদ্ধের মৃত্যু ​ভোলার গৃহবধূ মিতু হত্যা প্ররোচনা মামলায় স্বামী ও শাশুড়িসহ ৩ আসামি চট্টগ্রামে গ্রেফতার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সফলতার স্বীকৃতি পেলেন সিসিক কর্মীরা শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানের টাকার হিসেব দিত হবে আলীকদম বাস টার্মিনাল এলাকায় টমটমের ধাক্কায় ১৩ বছরের শিশু গুরুতর আহত গোলাপগঞ্জে অস্ত্রের মহড়া: ভাইরাল ভিডিওর তিন যুবক গ্রেফতার চিতলমারীতে মাদক অভিযানে গ্রেফতার ১০ উদ্ধার ০১

রমাদান: আত্মশুদ্ধি, সংযম ও মানবিক জাগরণের মহামাস

Reporter Name / ২৮২ Time View
Update : বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

মোঃ শাহজাহান বাশার

পৃথিবীর কোটি কোটি মুসলমানের হৃদয়ে বিশেষ আবেগ, আত্মিক স্পর্শ ও অনন্য তাৎপর্য নিয়ে প্রতি বছর ফিরে আসে পবিত্র রমাদান। এটি শুধু একটি মাস নয়—এটি আত্মশুদ্ধির আহ্বান, তাকওয়া অর্জনের প্রশিক্ষণ, আত্মনিয়ন্ত্রণের অনুশীলন এবং মানবতার পুনর্জাগরণের এক অপূর্ব সময়।

রমাদান মাসেই অবতীর্ণ হয়েছে মহাগ্রন্থ আল-কুরআন, যা সমগ্র মানবজাতির জন্য হেদায়েতের দিশারি। তাই এই মাস কেবল রোজা রাখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং কুরআনের আলোয় নিজের জীবনকে নতুনভাবে গড়ে তোলার একটি সুবর্ণ সুযোগ।
রমাদানের মূল ইবাদত রোজা। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার, ভোগ-বিলাস ও নফসের তাড়না থেকে বিরত থাকার নামই রোজা। কিন্তু রোজার প্রকৃত উদ্দেশ্য শুধু ক্ষুধা-তৃষ্ণা সহ্য করা নয়; বরং নিজের ভেতরের অহংকার, লোভ, হিংসা, ক্রোধ ও অসততা থেকে মুক্ত হওয়া।

রোজা আমাদের শেখায়—ক্ষুধার কষ্ট অনুভব করে গরিবের দুঃখ বুঝতে.ধৈর্য ও সহনশীলতার চর্চা করতে,আত্মসংযমের মাধ্যমে চরিত্র গঠন করতে

একটি সমাজ তখনই সুন্দর হয়, যখন তার মানুষগুলো আত্মনিয়ন্ত্রিত ও নৈতিকতায় বলীয়ান হয়। রমাদান সেই নৈতিক সমাজ গঠনেরই প্রশিক্ষণ শিবির।

রমাদানে ইবাদতের পরিবেশ যেন এক অন্যরকম প্রশান্তি এনে দেয়। মসজিদগুলো ভরে ওঠে তারাবির নামাজে। কুরআন তিলাওয়াতের সুমধুর ধ্বনি হৃদয়ে জাগায় আত্মিক শান্তি।

এই মাসেই রয়েছে মহিমান্বিত রজনী লাইলাতুল কদর, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। আল্লাহর রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত লাভের জন্য এ এক অনন্য সুযোগ।

রমাদান শুধু ব্যক্তিগত ইবাদতের সময় নয়; এটি সামাজিক দায়বদ্ধতারও মাস। যাকাত, ফিতরা ও দান-সদকার মাধ্যমে সমাজের দরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই এ মাসের অন্যতম সৌন্দর্য।

একটি পরিবার যখন ইফতারের সময় খেজুর ও পানির মাধ্যমে রোজা ভাঙে, তখন সে শুধু নিজের জন্যই দোয়া করে না—বরং প্রতিবেশী, সমাজ ও সমগ্র উম্মাহর কল্যাণ কামনা করে। এই সম্মিলিত প্রার্থনাই রমাদানকে করে তোলে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের মাস।

রমাদান আমাদের সামনে প্রশ্ন তোলে—আমি কি সত্যিই সৎ?আমি কি মানুষের হক আদায় করছি?
আমার আয়-উপার্জন কি হালাল?

এই আত্মজিজ্ঞাসাই একজন মানুষকে পরিবর্তনের পথে এগিয়ে নেয়। রমাদান যেন এক বার্ষিক আত্মসমীক্ষার সময়, যেখানে মানুষ নিজের ভুলগুলো সংশোধনের অঙ্গীকার করে এবং নতুন করে জীবন শুরু করার শক্তি পায়।

রমাদান আসে রহমত নিয়ে, যায় পরিবর্তনের বার্তা দিয়ে। যারা এ মাসকে শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না রেখে আত্মশুদ্ধির মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করে, তাদের জীবনেই আসে প্রকৃত সাফল্য।

আসুন, আমরা রমাদানকে শুধু একটি মাস হিসেবে নয়—বরং একটি বিদ্যালয় হিসেবে দেখি; যেখানে সংযম, সততা, মানবতা ও আল্লাহভীতি শেখানো হয়। এই শিক্ষা যদি আমরা বছরের বাকি সময়েও ধরে রাখতে পারি, তবেই রমাদান হবে আমাদের জীবনের সত্যিকারের পরিবর্তনের মাস।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd