মাহবুবুল আলম রিপন
(স্টাফ রিপোর্টার )
শীত মৌসুমের আগেই মানিকগঞ্জে শীতকালীন সবজির চারা উৎপাদনে আগাম প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন হাজারো চাষি। বিশেষ করে ৭টি উপজেলার মধ্যে সিংগাইর, সাটুরিয়া ও সদর উপজেলায় ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, করলা, লাউ, মুলা, শসা, পটল, লালশাক, পালংশাক সহ নানা সবজির বীজতলা তৈরি এবং পরিচর্যায় কৃষকরা দিনরাত কাজ করছেন। কম খরচে অধিক লাভের আশায় আগাম জাতের সবজি চাষে ঝুঁকছেন অনেক কৃষক।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত খরিপ-২ মৌসুমে জেলায় সবজির আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬৭৬ হেক্টর জমিতে, যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫২১৫৫ মেট্রিক টন, হেক্টর প্রতিফলন হয়েছিল ১৯৪৯ মেট্রিক টন। চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা আবাদের নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪৯৬ হেক্টর জমিতে। ইতোমধ্যে জমিতে চারা উৎপাদন ও বীজতলা তৈরিতে কৃষকরা সক্রিয় রয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সবজির চারা চাষে কৃষকরা শস্য কাজের নানান পর্যায়ে নিযুক্ত রয়েছে। কেউ হালচাষ করছেন, কেউ সার বা কীটনাশক প্রয়োগ করছেন, আবার কেউ পোকামারির নিয়ন্ত্রণে মনোযোগ দিচ্ছেন।
সাটুরিয়া উপজেলার পারতিল্লি এলাকার সবজি চাষি আব্দুর রাজ্জাক জানান, এ বছর তিনি ৮ বিঘা জমিতে ফুলকপি বাঁধাকপিসহ নানা জাতের সবজির আবাদ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ইতোমধ্যে তিনি একবিঘা জমিতে ৮টি ব্রেডের মাধ্যমে চারা উৎপাদন করা হয়েছে। এখন বিজতলা থেকে চারা উত্তোলন করে জমিতে রোপণের কাজ করছেন।
একই এলাকার কলেজ পড়–য়া আবু বকরকে দেখা গেলো সবজির বিজতলায় কীটনাশক প্রয়োগ করতে। তার জমিতে ফুলকপি ও বেগুনের চারা উৎপাদনের জন্য সকল প্রস্তুতি নিচ্ছে।
মানিকগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ড. বরীআহ নূর আহমেদ জানান, আগাম উৎপাদন হলে বাজারে ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ হবে অপরদিকে কৃষকরা লাভবান হবেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে এ ক্ষেত্রে নিয়মিত পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।