• শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৮ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
কৃষক স্মার্ট কার্ডে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন’ ভান্ডারিয়ায় কৃষক স্মার্ট কার্ড কার্যক্রমের উদ্বোধন সিলেটে এসএমপির মাসব্যাপী মাদকবিরোধী র‌্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত বুড়িচংয়ে পুলিশের অভিযানে ১৮০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক দৌলতখানে শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যে পালিত হলো ‘শহিদ জুলাই দিবস সিলেটের কানাইঘাট থানা পুলিশের অভিযানে বিপুল পরিমানে বিভিন্ন ব্রান্ডের ভারতীয় সিগারেট ও টায়ারসহ গ্রেফতার- সম্পর্ক বদলে গেল একটি পলকে ব্রাহ্মণপাড়ায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে চুরির ঘটনায় জড়িত ৪ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে বেড়েছে ফার্মের মুরগির দাম: যা জানা গেল তারুণ্যের উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগাতে ঢাবিতে ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ আয়োজন দক্ষিণ সুরমায় মাদকের স্বর্গরাজ্য: কিন ব্রিজ, সুইপার কলোনি ও কুমিল্লা পট্টিতে কোটি টাকার রমরমা ব্যবসা

ভূতের নৌকা পরীদের দখলে ( একটি রূপকথার গল্প )

Reporter Name / ১১০৫ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই, ২০২৫

অথই নূরুল আমিন

মহুলা ভূত রাজ্য। এই রাজ্যটির চারদিকে ছিল শুধু সাগর, সাগর আর সাগর। সেই সাগরের উপকূলে রয়েছে একটি ছোট্ট জঙ্গল। আর তার পাশে ছিল বিশাল একটি ফুলের বাগান। হাতে গোনা কয়েকটি ভূত পরিবার বসবাস করত। যেহেতু এই রাজ্যের চারদিকে ছিল সাগর। তাই সকল ভূতেরা সবাই মিলে চলাচলের জন্য একটি মনোরম নৌকা তৈরি করেছে। এই নৌকা দিয়ে ভূতেরা মাঝে মাঝে এদিক-ওদিক ঘুরতে যায়। কখনো গভীর সাগর থেকে বড় বড় মাছ, হাঙ্গর, কুমির শিকার করে। কখনো গভীর রাতে ভূতেরা এই নৌকাতেই রাত যাপন করে। এরকম বিভিন্নভাবে তাদের তৈরি নৌকাটি ব্যবহার করে।

উপকূলের পাশে থাকা ফুলের বাগানে নানা জাতের ফুলের সমারোহ। সেই বাগানে মাঝে মাঝে পরীরা নানা ঢঙের গান গায়, খেলা করে। এদিকে ভূতেরা শখ করে দুটি গাভী লালন পালন করে। এই দুটি গাভীকে প্রায় সময় ফুল বাগানের আশে পাশে নির্দিষ্ট একজন ভূত সবসময় রেখে দেয় আবার সন্ধ্যা হবার আগে এসে নিয়ে যায়। মাঝে মাঝে গাভী দুটিকে নৌকায় উঠিয়ে নদীর ওপারে নিয়ে যায়। এই পাতী দুটি দেখাশোনা করে যে ভূত তার নাম হলার ভূত। এই রাজ্যে হলার ভূত বলেই সে পরিচিত। এই হলার ভূত খুব শক্তিশালী একজন ভূত। এই হলার ভূত গাভী দুটিকে মাঝে মাঝে প্রহার করে। গাভীগুলো তখন খুব কষ্ট পায়।

আজকেও গাভীগুলোকে ফুল বাগানের পাশে এসে ঘাস খাওয়ার জন্য রেখে গেছে। কিন্তু সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে। গাভী দুটি নিতে হলার ভূত এখনো এলো না। এদিকে প্রতিদিনের মতো আজও পরীরা ফুল বাগানে ঘুরতে এসেছে। জাঁ পরী, সাঁ পরী, তাঁ পরী। এই পরীরা বাগানে খেলাধুলা করছে। বাগানের পাশে দুটি গাভী দেখে কৌতূহলবশত জিজ্ঞাসা করছে।

জাঁ পরী: কি গাভী ভাই! তোমরা এখানে কি করছ এখনো? তোমাদের মালিকরা কোথায়?
সাঁ পরী: এটাতো একটা ভূতরাজ্য মনে হয়। ভূতেরা কেউ গাভী দুটি লালন পালন করে হয়তো।

তাঁ পরী: কোন মালিক না থাকলে সাথে করে নিয়ে যাব আমাদের দেশে।
সাদা গাভী: তাই কর পরীরা। তাই কর। আমাদেরকে যে ভূত লালন পালন করে তার নাম হলার ভূত। প্রতিদিন আমাদেরকে আঘাত করে। এমনকি পেট ভরে খেতে
পর্যন্ত দেয় না।

কালো গাভী: জানো পরীরা, ভূতদের একটি নৌকা আছে। ঐ নৌকায় উঠিয়ে আমাদেরকে মাঝে মাঝে ওপারে নিয়ে যায়। তারপর মাঝ নদীতে নিয়ে আমাদেরকে অনেক ভয় দেখায়। নদীতে ফেলে আমাদেরকে মেরে ফেলতে চায়।

জাঁ পরী: কেন? কেন তোমাদেরকে মেরে ফেলতে চায়? তোমাদের অপরাধ কি? সাদা গাভী: অপরাধ হলো আমরা প্রজনন দিতে ব্যর্থ তাই।

কালো গাভী: জানো পরীরা, এই ভূতেরা আমাদের ভাষা বোঝে না। আমরা জাতে গাভী গরু। প্রজনন করতে হলে পুরুষ গরু দরকার। এই ভূতের রাজ্যে আর কোন গরু নেই। তাহলে আমরা প্রজনন করব কিভাবে?
সাঁ পরী: তাহলে তোমাদেরকে ভূতেরা খেয়ে ফেলে না কেন?
জাঁ পরী: তাইতো। তোমাদেরকে তো ভূতেরা খেয়ে ফেলতে পারে? তা করে না কেন?
তাঁ পরী: একটি গাভী তো যেকোনো একটি ভূতেই খেয়ে ফেলতে পারে ইচ্ছা করলে।

সাদা গাভী: না পরী। এই রাজ্যের ভূতেরা গরু খায় না। এছাড়া এই বনের পশু পাখি সব খেয়ে সাবার করে দিয়েছে। ওরা খুবই অত্যাচারী। আমাদেরকে তোমরা বাঁচাও পরী! তোমরা বাঁচাও।

সাঁ পরী: তা কি করে সম্ভব! আমরা তোমাদেরকে এখান থেকে নিয়ে যেতে পারবো না। সেই ক্ষমতা তো আমাদের নেই।
কালো গাভী: তোমরা তো অনেক যাদু জানো। ভূতের এই নৌকায় আমরা উঠি আর তোমাদের জাদু দিয়ে নৌকাটা সাগরের ওপারে পৌঁছে দিতে পারবেনা? তখন আমরা অন্য কোন রাজ্যে চলে যাব। তাঁ পরী: ঠিক আছে তাই করব। আমার যাদুর ক্ষমতা অনেক বেশি। সেই যাদু দিয়ে এই নৌকাটি নদীর ওপারে কেন? পৃথিবীর যেকোন প্রান্তে পৌঁছে দিব। এমনকি আমাদের দেশে পর্যন্ত পৌঁছে দিতে পারব।

সাদা গাভী: তাই কর দয়ালু পরীরা। তাই কর।
পরীদের পরামর্শ মতে গাভীগুলো সেই ভূতের নৌকার কাছে এলো এবং নৌকায় উঠল। এদিকে ভূতেরা একটি বড় গাছের নিচে আড্ডা দিচ্ছিল। তখন এমন সময় ভূতের সর্দার হলার ভূতকে জিজ্ঞাসা করলো।

সর্দার: হলার… গাভীগুলো কোথায়?
হলার ভূত: গাভীগুলো কালকে আনতে যাইনি সর্দার। ফুল বাগানের কাছেই আছে। সর্দার: ফুল বাগানে তো পরীরা আসে। এখন আমি পরীদের গন্ধ পাচ্ছি। ওরা আবার কেরামতি করেনি তো?
হলার ভূত: তা তো বলতে পারবোনা সর্দার।
সর্দার: চল তো ফুল বাগানে।

দৃশ্য: নৌকার মাঝে গাভী আছে। নৌকা ধীরে ধীরে চলছে। ভূতেরা এসে দেখল তাদের নৌকা ও গাভি দুটো হাত ছাড়া হবার পালা।
সর্দার: এই বেয়াদব পরীর দল। তোমরা আমাদের সাথে চালাকি করছো। আজ তোমাদেরকে এখানে বন্দি করব। নতুবা তাঁ পরীকে ফেরাও। আমাদের নৌকা।
আমাদের গাভী ফেরত দাও।

জাঁ পরী: দেখ অসভ্য ভূতের সর্দার। আমাদেরকে বন্ধি করার চেষ্টা করিস না। তাহলে আমার যাদুর হাত থেকে তোরা কেউ বাঁচতে পারবি না।
হলার: কি! এত বড় কথা?

হলার ভূত তার মুখ থেকে আগুনের গোলা বের করতে লাগলো। জাঁ পরী, সাঁ পরী, তাঁ পরী তাদের হাতে থাকা মমকাঠি ধারা প্রতিহত করতে লাগল। এদিকে ভূতের সর্দারসহ ভূতেরা চারজন পরীদের সাথে তুমুল যুদ্ধে লিপ্ত হল। সর্দার আহত হলো। হলার ভূত নিহত হল।

সাঁ পরী নৌকা নিয়ে নিরুদ্দেশ হলো। জাঁ পরী, তাঁ পরী তারা পাখা মেলে উড়ে চলে গেল। ভূতের নৌকা পরীদের দখলে গল্পটি এখানেই শেষ হলো।
বি: দ্র: গল্পটি এনিমেশন কার্টুন। অনূআর ঝুলি ইউটিউব চ‍্যানেলে প্রচারিত। এবং অনূআর ঝুলি ২ বই থেকে সংগৃহিত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd