মোঃ আজিজুল গাজী, জেলা প্রতিনিধি, বাগেরহাট।
বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলায় দিন দিন বাড়ছে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। বিশেষ করে ফকিরহাট সদর ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রাম বর্তমানে ডেঙ্গুর সবচেয়ে বেশি প্রাদুর্ভাবপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান জানান—
“বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে অধিকাংশই পাইকপাড়া এলাকার। ছোট শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত অনেকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন। প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে এবং অধিকাংশের উপসর্গ জ্বর, শরীর ব্যথা ও দুর্বলতা।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুমনা আইরিন বলেন—
“ডেঙ্গু সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছি। পুরো এলাকাজুড়ে কীটনাশক স্প্রে করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চলছে।”
এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ আসাদুজ্জামান সাগর জানান—
“ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ির আশেপাশের জমে থাকা পানি, ডোবা-নালা ও ফুলের টবে জমে থাকা পানি পরিষ্কার করতে হবে। তাহলেই ডেঙ্গুর প্রজননস্থল ধ্বংস হবে।”
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিনই নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছে। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধের সংখ্যা বেশি।
চিকিৎসকরা জানান,
ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে প্রচুর পানি ও তরল খাবার খেতে হবে,
জ্বর কমাতে প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য কোনো ওষুধ না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা,
এবং অবশ্যই রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
ফকিরহাট উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বিত প্রচেষ্টায় স্থানীয়দের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।