মোঃ শাহজাহান বাশার,
সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
অবৈধ গ্যাস সংযোগ উচ্ছেদ, পাইপলাইন অপসারণ এবং জরিমানা আদায়ের ধারাবাহিক অভিযানে নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় একযোগে অভিযান চালিয়েছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি। রোববার (১০ আগস্ট) দিনভর চলা এই অভিযানে শিল্প, বাণিজ্যিক ও আবাসিক পর্যায়ে বিপুলসংখ্যক অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
ফতুল্লা-কুতুবপুর জোনের আওতায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিজা খাতুনের নেতৃত্বে ৬টি স্পটে অভিযান চালানো হয়। এ সময় *মেসার্স বন্ধন স্টীল ওয়ার্কস* নামের একটি রোলিং মিলে ২টি মোল্ডিং ভাট্টিতে ৪টি বার্নার এবং ১টি গ্যালভানাইজিং হিট ট্রিটমেন্টে ৩টি বার্নারের মাধ্যমে প্রতি ঘণ্টায় ৪,৬০০ ঘনফুট অবৈধ গ্যাস ব্যবহার ধরা পড়ে। সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে উৎসমুখে কিলিং করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি মাসে প্রায় ৪৬,০৬০ ঘনমিটার গ্যাস ব্যবহার করছিল, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ১৪ লাখ ৪ হাজার ৮৩০ টাকা।

একই অভিযানে *হাবিবা বেকারি* নামের একটি বেকারিতে ১টি রোটারি রেক ওভেনের মাধ্যমে ঘণ্টায় ৩০০ ঘনফুট গ্যাস অবৈধভাবে ব্যবহারের প্রমাণ মেলে। এটি বিচ্ছিন্ন করে উৎসমুখে কিলিং করা হয়। মাসিক ব্যবহারের মূল্য দাঁড়াত প্রায় ৬৪ হাজার ৬৭১ টাকা।
এ ছাড়া, বৈধ ৪ ইঞ্চি লাইনের সাথে অবৈধভাবে স্থাপন করা ৩ ইঞ্চি ও প্রায় ১,৫০০ ফুট বিতরণ লাইন অপসারণের সময় স্থানীয়দের উত্তেজনা ও বাধার মুখে পড়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে লাইন কিলিং না করে অভিযান দলকে সরে আসতে হয়।
উত্তর ভূইগড়ে ১৩টি ডাবল বার্নারের মাধ্যমে অবৈধ আবাসিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে উৎসমুখে কিলিং করা হয় এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
একই দিনে রূপগঞ্জ আঞ্চলিক বিক্রয় বিভাগের আওতায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাছিবুর রহমানের নেতৃত্বে আতলাসপুর এলাকায় অভিযান চালানো হয়। প্রায় ৩.৫ কিলোমিটার এলাকায় ২২০টি বাড়ির মধ্যে ১৬৫টি চুলার গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এ সময় ১.৫ ইঞ্চি ব্যাসের ২৩০ ফুট লোহা পাইপ এবং ৫০০ ফুট প্লাস্টিক পাইপ জব্দ করা হয়।

অন্যদিকে, আঞ্চলিক রাজস্ব বিভাগ–নারায়ণগঞ্জ এলাকায় ৪টি স্পটে অভিযানে ৪টি বৈধ আবাসিক গ্রাহকের ১৭টি ডাবল চুলার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। একজন শিল্প গ্রাহকের কাছ থেকে ২ কোটি ২২ লাখ ৮২ হাজার ৫৬০ টাকা বকেয়া আদায় করা হয়।
ভোর ৬টা থেকে আঞ্চলিক ভিজিল্যান্স বিভাগ–নারায়ণগঞ্জের সমন্বিত টিম আড়াইহাজার এলাকায় গ্রাহক প্রাঙ্গণ পরিদর্শন শুরু করে। সকাল ১১টায় *সুমি ট্রেডার্স এন্ড ডাইং* (গ্রাহক নং ৩৩৭০০০৫৯৫)-এর কারখানায় বাইপাস লাইনের মাধ্যমে অবৈধ গ্যাস ব্যবহার ধরা পড়ে, যা তাৎক্ষণিকভাবে বিচ্ছিন্ন করা হয়।
একই অভিযানে *শওকত আলী টেক্সটাইল* (৩৩৭০০০১৯৬) ও *সালেহউদ্দিন সাইজিং ইউনিট* (৩৩৭০০০২৬১)-কে নকশাবহির্ভূত পয়েন্ট অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়। *মেসার্স ইউসুফ আলী টেক্সটাইল* (৩৩৭০০০৪২০)-এর নকশাবহির্ভূত পয়েন্ট তাৎক্ষণিকভাবে কিল করা হয়।
জয়দেবপুর আঞ্চলিক বিক্রয় বিভাগের আওতায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈকত রায়হানের নেতৃত্বে মেসার্স ভারগো টোবাকো এবং কাউলতিয়া ও মুসলিমপাড়া এলাকায় অভিযান চালানো হয়। আনুমানিক ১,২০০ ফুট শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিতরণ লাইন এবং ১৫০টি দ্বিমুখী চুলার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এ সময় ১ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
তিতাস গ্যাস জানায়, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ১০ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে ২৯৬টি শিল্প, ৩২২টি বাণিজ্যিক এবং ৬৩ হাজার ৫১টি আবাসিকসহ মোট ৬৩ হাজার ৬৬৯টি অবৈধ সংযোগ ও ১ লাখ ২০ হাজার ৬১৪টি বার্নার বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এসব অভিযানে ২৩৯ কিলোমিটার পাইপলাইন অপসারণ করা হয়েছে।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অবৈধ সংযোগকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।