মোঃ শাহজাহান বাশার
সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ
সারাদেশে অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে চলমান সাঁড়াশি অভিযানে অভূতপূর্ব সাফল্য দেখিয়েছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি। বুধবার, ৬ আগস্ট ২০২৫ তারিখে এক দিনে একাধিক অঞ্চলে পরিচালিত অভিযানে ৬৩,৩৯০টি অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম জব্দ ও আর্থিক জরিমানার ঘটনা ঘটেছে। অবৈধ সংযোগকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ এবং গ্যাস চোরচালানে জড়িতদের শিকড় উপড়ে ফেলার ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
গাজীপুরে বড়সড় উচ্ছেদ অভিযান: চুলা ও পাইপলাইন জব্দ, জরিমানা
প্রথম দফায় অভিযান পরিচালিত হয় তিতাস গ্যাসের জোবিঅ-জয়দেবপুর ও আবিবি-জয়দেবপুর অঞ্চলের আওতাধীন গাজীপুরের খাইলকুর ও কুনিয়া তারগাছ এলাকায়।
এই অভিযানে:২০০ ফুট ৩/৪ ইঞ্চি পাইপলাইন উচ্ছেদ,২০০টি অবৈধ ডাবল চুলা জব্দ,একজন গ্রাহককে ৩০,০০০ টাকা জরিমানা
তিতাস কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সহায়তায় পরিচালিত এ অভিযানে গ্যাস চোরচালানকারীদের বড় ধরনের ধাক্কা দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
একই দিনে জোবিঅ-নরসিংদী ও আবিবি-নরসিংদী অঞ্চলের মাধবদীর আলগী, খোজ পাড়া, রিফজি পাড়া ও পূর্বপাড়া এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
এ অভিযানে:১০ ফুট জিআই পাইপ, ৩০০ ফুট এমএস পাইপ ও ৪০০ ফুট পিভিসি পাইপ জব্দ,৬টি অবৈধ ডাবল চুলা জব্দ,১টি সংযোগ বকেয়ার কারণে বিচ্ছিন্ন, আবাসিক লাইনে বাণিজ্যিক গ্যাস ব্যবহারের অভিযোগে ১ জনকে ৩,০০০ টাকা জরিমানা
তিতাস গ্যাস জানায়, এ অভিযানে দেখা গেছে—আবাসিক গ্রাহকরা অবৈধভাবে বাণিজ্যিক সুবিধা নিচ্ছেন, যা সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ।
তিতাস গ্যাসের জোবিঅ-ময়মনসিংহ ও আবিবি-ময়মনসিংহ অঞ্চলের আওতায় মুক্তাগাছার নন্দীবাড়ী, মনিরাম বাড়ী, লক্ষীখোলা ও পায়রাকান্দি এলাকায় চালানো অভিযানে: ৮টি ডাবল বার্নার ও ২টি সিঙ্গেল বার্নার জব্দ।৭টি রাইজার কিলিং/ক্যাপিং করা হয়
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এইসব এলাকায় অবৈধ সংযোগ দিয়ে গ্যাস ব্যবহার করা হচ্ছিল। তাই এই অভিযানকে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন সচেতন মহল।
তিতাস গ্যাস জানায়, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ৬ আগস্ট পর্যন্ত চালানো অভিযানে: ২৯৩টি শিল্প, ৩১৭টি বাণিজ্যিক ও ৬২,৭৮০টি আবাসিক সংযোগ, মোট ৬৩,৩৯০টি অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, ১,২০,০১৬টি অবৈধ বার্নার অপসারণ, ২৩৫.২ কিলোমিটার পাইপলাইন ধ্বংস ও অপসারণ
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি-এর ব্যবস্থাপক (মিডিয়া ও জনসংযোগ) মোঃ আল-আমিন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়:“অবৈধ গ্যাস সংযোগ শুধু সংস্থার আর্থিক ক্ষতি করে না, বরং এটি জনজীবনের জন্যও মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করে। এই কার্যক্রম আরও জোরালোভাবে চলবে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ধরনের অভিযান শুধুমাত্র সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলেই শেষ নয়, বরং যেসব প্রভাবশালী মহল বা অসাধু কর্মকর্তা এই সংযোগ দেয়, তাদের আইনের আওতায় আনাই হবে প্রকৃত সাফল্য।
তারা বলেন, “এই অভিযান কার্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী করতে হলে প্রশাসনিক সমন্বয়, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং আইনের প্রয়োগ একযোগে নিশ্চিত করতে হবে।”
বিশেষজ্ঞ ও তিতাস কর্তৃপক্ষের ভাষ্যে উঠে এসেছে, গ্যাস নিরাপত্তা এবং অবৈধ সংযোগের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে গণমাধ্যম, সামাজিক সংগঠন ও জনপ্রতিনিধিদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।