হামিদুর রহমান, তানোর রাজশাহী প্রতিনিধি:
রাজশাহীর তানোর উপজেলার ধানতৈর গ্রামে ঈদের দিন সকালে এক চাঞ্চল্যকর ও ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। চুরির সন্দেহে এক গৃহবধূকে জোরপূর্বক আটক করে দীর্ঘ সময় ধরে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক পরিবারের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধানতৈর গ্রামের বাসিন্দা ইন্তাজ বাবুর বাড়ি থেকে কয়েকদিন আগে আনুমানিক ১ লক্ষ টাকা হারিয়ে যায়। এ ঘটনার পর থেকেই তিনি ও তার পরিবার বিভিন্ন জনের ওপর সন্দেহ করতে থাকেন। এমনকি বিষয়টি নিয়ে এক কবিরাজের সহযোগিতাও নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
ঘটনার দিন সকালে সন্দেহের বশবর্তী হয়ে ইন্তাজ বাবুর স্ত্রী পাশের বাড়ির রওশন আরা নামে এক মহিলাকে জোরপূর্বক নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরে তাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে হাত-পা বেঁধে বাথরুমের ভেতরে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে মারধর করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এসময় তাকে জীবননাশের হুমকিও দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হলে স্থানীয়রা বিষয়টি তানোর থানায় অবহিত করেন। খবর পেয়ে তানোর থানার এসআই উৎপল সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকা রওশন আরাকে উদ্ধার করেন।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে, এত গুরুতর ঘটনার পরও এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের চাপে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে ধানতৈর গ্রামের সাধারণ মানুষ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, “এ ধরনের বর্বরতা কোনো সভ্য সমাজে মেনে নেওয়া যায় না। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে, সেজন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনাটি ইতোমধ্যে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে