তানোর রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি:তানোরে জমি জবরদখলের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে গোলাম রাব্বানি ওপর হামলা, মারধর, দোকানঘর ভাঙচুর, নগদ টাকা নিয়ে যাওয়াসহ প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগপত্রে ঘটনার সঙ্গে জড়িত হিসেবে মোঃ এসারুদ্দিন মিয়া, মোঃ হুমায়ুন, মোঃ নাসিরুল ইসলাম, মোঃ আব্দুস সাত্তার সরকার এবং মোঃ হাসান আলী—এই পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, তিনি পেশায় একজন পল্লী চিকিৎসক। তিনি তানোর উপজেলার ২ নম্বর বাধাইড় ইউনিয়নের মিশনপাড়া এলাকায় তপশিলভুক্ত জমিতে মাটির তৈরি একটি দোকানঘর নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। ওই সম্পত্তি নিয়ে অভিযুক্তরা বেশ কিছুদিন ধরে জবরদখলের চেষ্টা করে আসছিলেন বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়।লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ৭ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে অভিযুক্তরা দলবদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে যান। এ সময় তাদের হাতে লোহার রড, বাঁশের লাঠি, লোহার শাবলসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ছিল তারা জোরপূর্বক জমিটি ঘেরাও করার চেষ্টা করেন এবং সেখানে থাকা স্থাপনা দখলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় বাধা দিতে গেলে হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।আরও বলা হয়, মোঃ হুমায়ুনের নির্দেশে অভিযুক্তরা হামলা চালান বলে অভিযোগকারীর দাবি। একপর্যায়ে মোঃ এসারুদ্দিন মিয়া অভিযোগকারীর হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত হন।
এ ছাড়া নাসিরুল ইসলাম ও অন্য অভিযুক্তরা লোহার রড, বাঁশের লাঠি ও লোহার শাবল দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোলা, জখম ও কালশিরা পড়ে বলে অভিযোগকারীর দাবি।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মোঃ হাসান আলী বাঁশের লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। একপর্যায়ে অভিযোগকারী মাটিতে পড়ে গেলে নাসিরুল ইসলাম তার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন বলেও লিখিত অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
দোকানঘরে তালা, নগদ টাকা নেওয়ার অভিযোগ
হামলার পাশাপাশি অভিযোগকারীর দোকানঘরে থাকা নগদ ১৬ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। একই সঙ্গে দোকানে থাকা বিভিন্ন মালামাল ও চিকিৎসাসামগ্রী ভাঙচুর করে আনুমানিক ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীর চিৎকারে স্থানীয় কয়েকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে সরে যাওয়ার আগে তাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং তার দোকানঘরে দুটি তালা লাগিয়ে দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত চিকিৎসককে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার কারণে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মাথার ডান পাশে ৬টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলেও লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।স্থানীয়দের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে
অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলার সময় তার ডাক-চিৎকারে স্থানীয় কয়েকজন এগিয়ে এলে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা তখনও তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দেন।
ঘটনার পর চিকিৎসাধীন থাকা এবং বিষয়টি পরিবার ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করার কারণে থানায় অভিযোগ দিতে কিছুটা সময় লেগেছে বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
থানায় লিখিত অভিযোগ, আইনগত ব্যবস্থা দাবি
তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মাহমুদুল হাসান বলেন সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আচ্ছাস দেন।