• শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০১ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
কালিয়াকৈর বাজারে ১২ কেজি জেলি পুশ করা চিংড়ি জব্দ, পরে বিনষ্ট ‎আশুলিয়ায় প্রবাসির স্ত্রী রোকসানা বেগমকে কু/পি/য়ে হ/ত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা তানোরে আইএফআইসি ব্যাংকের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন তানোরে ছাগল-ভেড়ার পি.পি.আর. রোগ প্রতিরোধে বিনামূল্যে টিকাদান ভাণ্ডারিয়ায় হোল্ডিং নম্বরের নামে টাকা নিয়ে প্রতারণার! নিজের কর্মচারীর বিরুদ্ধেই পৌরসভা মাইকিং বুড়িচংয়ে গভীর রাতে জানালা দিয়ে  বৃদ্ধাকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ, আইসিইউতে চিকিৎসাধীন দশ বছর পাশাপাশি, তবুও অচেনা তানোরে জমি দখলের অভিযোগে হামলা-ভাঙচুর,থানায় লিখিত অভিযোগ সাভারের আশুলিয়ায় ক্লথিং কার্নিভালস লিঃ শ্রমিকদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ আশুলিয়ার বগাবাড়ি থেকে ১৩৭ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার -২

তানোরে ছাগল-ভেড়ার পি.পি.আর. রোগ প্রতিরোধে বিনামূল্যে টিকাদান

Reporter Name / ৩৬ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬

 

হামিদুর রহমান,রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি
রাজশাহীর তানোর উপজেলায় ছাগল ও ভেড়ার প্রাণঘাতী পি.পি.আর রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে বিনামূল্যে টিকাদান কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের “পি.পি.আর. রোগ নির্মূল ও ক্ষুরারোগ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প”-এর আওতায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে তানোর উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষ্ণপুর গ্রামে এ টিকাদান উকার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল, তানোর, রাজশাহীর আয়োজনে স্থানীয় কৃষক, ছাগল-ভেড়া পালনকারী ও খামারিদের পশুকে বিনামূল্যে পি.পি.আর. টিকা দেওয়া হয়।
টিকাদান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন তানোর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাজু আহমেদ, গ্রাম্য চিকিৎসক মহাসিন আলী, মাঠকর্মীসহ স্থানীয় ছাগল-ভেড়া পালনকারী কৃষক ও খামারিরা। এ সময় স্থানীয় বেশার মোয়াজ্জেন ও ফিরোজসহ অনেকেই তাদের ছাগল-ভেড়া নিয়ে টিকা কার্যক্রমে অংশ নেন।
প্রাণঘাতী পি.পি.আর. রোগ
সংশ্লিষ্টরা জানান, পি.পি.আর. ছাগল ও ভেড়ার একটি অত্যন্ত সংক্রামক ও মারাত্মক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত পশুর মধ্যে দ্রুত রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং গুরুতর অবস্থায় পশুর মৃত্যুও ঘটতে পারে। বিশেষ করে ছোট ও প্রান্তিক খামারিদের জন্য এ ধরনের রোগের প্রাদুর্ভাব বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
একটি খামারে একাধিক পশু একই সঙ্গে আক্রান্ত হলে খামারিদের ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়ে যায়। ফলে রোগের বিস্তার রোধে সময়মতো টিকাদানকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন প্রাণিসম্পদ বিভাগের সংশ্লিষ্টরা।
দেশব্যাপী সরকারের বিনামূল্যে টিকাদান কর্মসূচি
ছাগল ও ভেড়ার মধ্যে পি.পি.আর. রোগের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যায়ক্রমে রোগটি নির্মূলের লক্ষ্যে সরকার দেশব্যাপী বিনামূল্যে টিকাদান কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় তানোর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে ছাগল ও ভেড়াকে পি.পি.আর. টিকা দেওয়া হচ্ছে।
প্রাণিসম্পদ বিভাগের এ উদ্যোগের ফলে প্রান্তিক কৃষক ও খামারিরা নিজেদের পশুকে বিনামূল্যে টিকা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এতে একদিকে যেমন তাদের চিকিৎসা ও রোগ প্রতিরোধের খরচ কমছে, অন্যদিকে পশুসম্পদ রক্ষায় সচেতনতা বাড়ছে।
বিনামূল্যে টিকা পেয়ে স্বস্তিতে কৃষক-খামারিরা
সরকারি উদ্যোগে বিনামূল্যে টিকা পাওয়ায় স্থানীয় ছাগল পালনকারী ও খামারিদের মধ্যে স্বস্তি দেখা গেছে। তাদের মতে, ছাগল পালন অনেক পরিবারের বাড়তি আয়ের অন্যতম উৎস। কিন্তু রোগবালাইয়ের কারণে একসঙ্গে একাধিক ছাগল মারা গেলে তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। স্থানীয় ছাগল পালনকারী আলাউদ্দিন ও মান্নান বলেন, আগে টিকার জন্য তাদের নিজেদের অর্থ ব্যয় করতে হতো। অনেক সময় আর্থিক সংকটের কারণে সময়মতো টিকা দেওয়া সম্ভব হতো না। এতে রোগে আক্রান্ত হয়ে ছাগল মারা যাওয়ার আশঙ্কা থাকত।
তারা বলেন, সরকার বিনামূল্যে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করায় তারা উপকৃত হচ্ছেন। নিয়মিত টিকাদানের পাশাপাশি প্রাণিসম্পদ বিভাগের পরামর্শ ও চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য হলে ছাগল-ভেড়া পালন করে কৃষকরা বেশি লাভবান হতে পারবেন। প্রাণিসম্পদ বিভাগের সংশ্লিষ্টরা বলেন, পি.পি.আর. রোগ প্রতিরোধে সময়মতো টিকা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু টিকা দেওয়াই নয়, খামারে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়াও জরুরি। তারা ছাগল ও ভেড়া পালনকারীদের অসুস্থ পশুকে সুস্থ পশু থেকে আলাদা রাখা, খামার ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং পশুর মধ্যে রোগের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত প্রাণিসম্পদ দপ্তর বা ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান।
সংশ্লিষ্টদের আশা, সরকারের বিনামূল্যের এ টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে তানোর উপজেলার প্রান্তিক কৃষক ও খামারিদের ছাগল-ভেড়া রোগমুক্ত ও সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে। পাশাপাশি নিয়মিত টিকাদান ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে পি.পি.আর. রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ করে পর্যায়ক্রমে এ রোগ নির্মূলের লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd