সুকমল চন্দ্র বর্মন (পিমল)
ষ্টাফ রিপোর্টারঃ
জয়পুরহাটে দিন দিন উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন নিতে আসা রোগীর সংখ্যা। প্রতিদিন গড়ে ৩০০ থেকে ৩৫০ জন রোগী জেলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে জলাতঙ্ক প্রতিরোধে টিকা নিচ্ছেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যকই বিড়ালের আঁচড় বা কামড়ে আক্রান্ত।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, জনবল সংকটের কারণে দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্স ও চিকিৎসকরা প্রচণ্ড চাপের মুখে পড়ছেন। সিনিয়র স্টাফ নার্স মাছুমা আক্তার বলেন, ‘২৫০ শয্যা হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে দেড় হাজার রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। এর মধ্যে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন দেয়ার রোগীই তিন শতাধিক। জনবল সংকটের কারণে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’
স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, শুধু কুকুর নয়, বিড়ালের কারণেও জলাতঙ্কে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা বাড়ছে। জয়পুরহাট শহরের বিশ্বাসপাড়া এলাকার অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমি আক্তার জানান, অসুস্থ বিড়ালের যত্ন নিতে গিয়ে কামড় খেয়ে তাকে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন নিতে হয়েছে। একই এলাকার শাহাদুল ইসলামের পরিবারের চারজনও বিড়ালের আঁচড়ে টিকা নিতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘শখের বসে বিড়াল পালনে বড় ঝুঁকিতে পড়তে হচ্ছে। তাই পোষা প্রাণীদেরও নিয়মিত টিকার আওতায় আনা উচিত।’
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শহীদ হোসেন বলেন, ‘ভ্যাকসিন পর্যাপ্ত থাকলেও রোগীর চাপ সামলানো কষ্টকর হয়ে পড়ছে। জলাতঙ্ক প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে হবে। শুধু কুকুর নয়, বিড়ালের আঁচড় বা কামড়ও সমান ঝুঁকিপূর্ণ। সময়মতো ভ্যাকসিন নেয়াই বাঁচার একমাত্র উপায়।’
প্রাণিসম্পদ বিভাগের ভেটেরিনারি অফিসার ডা. রুন্তম আলী বলেন, ‘বিড়ালের কামড় বা আঁচড় থেকেও জলাতঙ্ক ছড়ায়। তাই পোষা প্রাণীদের নিয়মিত টিকা দেয়া জরুরি।’
জয়পুরহাটের সিভিল সার্জন ডা. আল মামুন সতর্ক করে বলেন, ‘সময়মতো টিকা না নিলে জলাতঙ্কে মৃত্যুঝুঁকি শতভাগ। আক্রান্ত হলে দ্রুত ক্ষতস্থানে সাবান ও পানি দিয়ে ধুতে হবে এবং অবশ্যই ভ্যাকসিন নিতে হবে।