মো. শাহজাহান বাশার
চট্টগ্রাম লালদীঘি ময়দান, ১৫ নভেম্বর শনিবার বিকালঃআগামী ফেব্রুয়ারিতে ঘোষিত জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও সময়মতো আয়োজনের জোর দাবি জানিয়ে বিশাল জনসভার মাধ্যমে ১৩ দফা দাবি উপস্থাপন করেছে বৃহত্তর সুন্নী জোট চট্টগ্রাম জেলা। জনসভায় নেতৃবৃন্দ সতর্ক করে বলেন— “কোনো মহলের ষড়যন্ত্রে জাতীয় নির্বাচন বানচাল হলে দেশ আবারো ভয়াবহ বিপর্যয়ের গভীর গহ্বরে পড়বে, জনগণকে দিতে হবে চরম মূল্য।”কোনো মহলের ষড়যন্ত্রে জাতীয় নির্বাচন বানচাল হলে দেশ ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে
সুন্নী জোটের ঘোষিত দাবিগুলোর মধ্যে ছিল:ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন অবধারিতভাবে নিশ্চিত করা,রাষ্ট্রীয় সংলাপ ও জুলাই সনদে সব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা,দুর্নীতিবাজ, কালো টাকার মালিক ও দণ্ডিতদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা,মাজার, মসজিদ, খানকা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলাকারীদের বিচার,জুলাই বিপ্লব ও পরবর্তী সময়ে সংঘটিত সব হত্যাকাণ্ডের বিচার,মবসন্ত্রাস ও রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধ,অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান,পার্বত্য অঞ্চলে বিদেশি মদদপুষ্ট সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা,চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল,মাজার-মসজিদ ও ধর্মীয় নেতাদের নিরাপত্তা,মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা রক্ষা,গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিক নিরাপত্তা,নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ প্রশাসন
বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান পীরে তরিকত মাওলানা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী বলেন—“বাংলাদেশের মানুষ আজ ঘরে-বাইরে কোথাও নিরাপদ নয়। গত ১৫ মাসে মব সৃষ্টি করে নিরীহ মানুষ হত্যা, মসজিদ-মাজার ভাঙচুর, কবর থেকে লাশ তুলে জ্বালিয়ে ফেলা—এমন অমানবিকতার নজির অতীতে নেই। বিচারক, শিক্ষক, ইমাম—কেউই নিরাপদ নন।”
তিনি আরও বলেন—“আমরা কাউকে প্রতিপক্ষ মনে করি না। সুফীবাদী শান্তিপ্রিয় জনতাই এদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ। কিন্তু গায়ে পড়ে ঝগড়া চাপালে আমরা আর চুপ থাকব না।”বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান মাওলানা এম এ মতিন বলেন—“চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের স্বপ্নের বাংলাদেশ এখনো অধরা। দুর্নীতি, খুন, সন্ত্রাস বেড়েছে। সরকারি উপদেষ্টাদের দলঘেঁষা আচরণ সুষ্ঠু নির্বাচনের বড় বাধা।”
ইসলামিক ফ্রন্ট চেয়ারম্যান মাওলানা বাহাদুর শাহ মুজাদ্দেদি বলেন—“দেশে লাখ লাখ মানুষ বেকার, শত শত কারখানা বন্ধ, দারিদ্র্য বেড়েছে। কবরের লাশও আজ নিরাপদ নয়—নব্য জাহিলিয়াত ফিরে এসেছে।”
ইসলামিক ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় মহাসচিব মাওলানা জয়নাল আবেদীন জুবাইর জানান—
“গ্রেফতার বাণিজ্য, মামলা বাণিজ্য, জামিন বাণিজ্যসহ দুর্নীতির মহোৎসব চলছে। এসব বন্ধে সরকার ব্যর্থ। নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।”
মাওলানা স উ ম আবদুস সামাদ বলেন—“বিদ্যমান রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে দেশবিরোধী অপশক্তি সক্রিয় হতে পারে। ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বানচাল হলে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বই হুমকির মুখে পড়বে।”
বিএসপি কো-চেয়ারম্যান এডভোকেট কাজী মহসিন চৌধুরী বলেন—“শিল্প উৎপাদন ব্যাহত, আমদানি-রপ্তানি প্রায় স্থবির। বিদেশি বিনিয়োগ নেই। সরকারের প্রতি জনআস্থা কমছে।”
ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ‘অবৈধভাবে’ ছাঁটাইকৃত কর্মীদের অবিলম্বে চাকরিতে ফেরানোর জোর দাবি এসেছে জনসভা থেকে।
সভায় বক্তব্য রাখেন—সৈয়দ মছিহুদ্দৌলা, এডভোকেট আবু নাছের তালুকদার, মাওলানা আবু সুফিয়ান আবেদী, অধ্যক্ষ মাওলানা আহমদ হোসাইন, মাওলানা ছাদেকুর রহমান হাশেমী, মুফতি খাজা বাকি বিল্লাহ আজহারী, ডা. সরওয়ার উদ্দিন, ছাত্রসেনা কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সাহেদুল আলমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শতাধিক আলেম-নেতৃবৃন্দ।
সভা পরিচালনা করেন—মাওলানা আবদুন্নবী আলকাদেরী, মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন ভূইয়া ও মঈন উদ্দিন চৌধুরী হালিম।সভাপতিত্ব করেন—এস এম শাহাবুদ্দিন, সভাপতি, বিএসপি চট্টগ্রাম জেলা।