স্টাফ রিপোর্টার | কুমিল্লা:
কুমিল্লার সাহেবাবাদ এলাকায় সুপরিচিত সমাজসেবক ও ক্রীড়াপ্রেমী ব্যক্তিত্ব হাসান হুজুরকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একটি চোরাই মোবাইল সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। গত ১৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা, সচেতন মহল এবং ধর্মপ্রাণ মানুষদের দাবি—প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে হাসান হুজুরকে জড়িয়ে যে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট এবং একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ। তারা মনে করছেন, একটি কুচক্রী মহল ব্যক্তিগত শত্রুতা ও হীনস্বার্থ চরিতার্থ করতেই এ ধরনের মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করেছে।
হাসান হুজুর দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় একজন নির্লোভ, দ্বীনদার ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে নিবেদিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তিনি ধর্মীয় কার্যক্রম, মসজিদভিত্তিক শিক্ষা বিস্তার, অসহায় মানুষের সহায়তা এবং সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। স্থানীয়দের মতে, মাদক, চোরাচালান বা যেকোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তিনি সবসময়ই কঠোর অবস্থানে থেকেছেন।
কেবল ধর্মীয় ক্ষেত্রেই নয়, ক্রীড়া ও তরুণ সমাজের উন্নয়নেও তার অবদান প্রশংসনীয়। স্থানীয় আর্মি স্টেডিয়ামে নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজন, বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং তরুণদের সুস্থ বিনোদনের মাধ্যমে মাদক থেকে দূরে রাখার উদ্যোগ গ্রহণ করে তিনি এলাকায় ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছেন। ফলে তরুণদের কাছে তিনি একজন আদর্শ ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচিত।
এমন একজন সমাজনির্মাণে নিবেদিত মানুষের নাম একটি চোরাচালান সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিস্ময় ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসান হুজুরের জনপ্রিয়তা ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতায় ঈর্ষান্বিত হয়ে কিছু অসাধু ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তারা আরও দাবি করেন, ওই চক্রটি তার কাছ থেকে অনৈতিকভাবে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেছিল। এতে ব্যর্থ হয়ে তারা পরিকল্পিতভাবে সাংবাদিকদের বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে তার সম্মানহানি করার চেষ্টা করছে।
একাধিক এলাকাবাসী বলেন, “যে মানুষটা সারাজীবন সমাজের ভালো জন্য কাজ করছে, তাকে এভাবে মিথ্যা মামলায় জড়ানো অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।”
প্রকাশিত প্রতিবেদনে হাসান হুজুরকে অপরাধী চক্রের সহযোগী হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও, সেখানে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে করে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ আরও বেড়েছে। অনেকেই এটিকে সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থী বলেও মন্তব্য করেছেন।
এ বিষয়ে হাসান হুজুর বলেন,
“আমি সারাজীবন ন্যায়ের পথে এবং দ্বীনের পথে চলার চেষ্টা করেছি। অপরাধ বা দুর্নীতির সঙ্গে আমার দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই। আমাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার হীন উদ্দেশ্যে কিছু মানুষ মিথ্যা তথ্য ছড়িয়েছে। আমি এই ভিত্তিহীন সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”
এলাকাবাসী এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ষড়যন্ত্র আরও বাড়তে পারে।
সবশেষে সচেতন মহল বলছে, একজন সম্মানিত সমাজসেবকের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা কেবল ব্যক্তিগত ক্ষতিই নয়, সমাজের জন্যও একটি নেতিবাচক বার্তা বহন করে। তাই সত্য উদঘাটনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।