মো. শাহজাহান বাশার | স্টাফ রিপোর্টার
বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)-এর “স্কুল/মাদ্রাসা ক্যাম্পেইন” কর্মসূচির অংশ হিসেবে কাটলিপাড়া উপজেলার খালেখিয়া আলিম মাদ্রাসায় অনুষ্ঠিত হলো এক ব্যতিক্রমধর্মী কাউন্সেলিং ও মতবিনিময় সভা।
এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিডিপি চেয়ারম্যান এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চান। তিনি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, মনোবিকাশ এবং শিক্ষা-জীবনের দিকনির্দেশনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
ছাত্র-ছাত্রীদের মনোযোগী, আত্মবিশ্বাসী এবং জনসচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে ‘কাউন্সেলিং’অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে চেয়ারম্যান চান বলেন,
“বর্তমান প্রজন্মই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়বে। তাই তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা, মানসিক প্রশিক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতনতা খুবই জরুরি।”
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “তোমাদের স্বপ্ন দেখতে হবে—কে চিকিৎসক হবে, কে শিক্ষক হবে, কে বিজ্ঞানী হবে। তবে সে স্বপ্ন যেন সমাজ ও দেশের কল্যাণে কাজে লাগে, সেটা আগে ভাবতে হবে।”
শিক্ষার্থীদের প্রশ্নোত্তর পর্বে তারা ভবিষ্যৎ পেশা, উচ্চশিক্ষার লক্ষ্য, নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে।
চেয়ারম্যান চান তাদের উৎসাহ দেন এবং বলেন, “দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেধাবীদের সামনের কাতারে আনাই আমাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক দায়।”
কাউন্সেলিং পর্বের পর বিডিপি চেয়ারম্যান মাদ্রাসার শিক্ষকবৃন্দের সঙ্গে এক ঘরোয়া আলোচনায় বসেন।এই আলোচনায় শিক্ষার মানোন্নয়ন, পাঠ্যপুস্তকে সময়োপযোগী পরিবর্তন, নৈতিক শিক্ষা জোরদারকরণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ উন্নয়ন বিষয়ে মতবিনিময় হয়।
শিক্ষকদের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি প্রস্তাব ও বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। চেয়ারম্যান চান এসব গুরুত্বসহকারে শোনেন এবং বলেন,“আমরা শুধু রাজনীতি করতে আসিনি, শিক্ষা, সমাজ ও উন্নয়নের প্রতিটি স্তরে পরিবর্তনের বাস্তব রূপরেখা বাস্তবায়নে কাজ করতে চাই।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অভিভাবক ও স্থানীয় ব্যক্তিরা বিডিপি চেয়ারম্যানের এমন শিক্ষা-কেন্দ্রিক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
তারা বলেন, রাজনীতিবিদরা যদি এভাবে স্কুল-মাদ্রাসায় এসে ছাত্র-শিক্ষকদের সাথে কথা বলেন, তাহলে তা শিক্ষার মান ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে।
কর্মসূচির শেষে বিডিপির পক্ষ থেকে কিছু দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সহায়তা হিসেবে খাতা-কলম ও প্রয়োজনীয় উপকরণ বিতরণ করা হয়।
তিনি আরো বলেন “শিক্ষা-সংস্কার কেবল নীতিমালার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না, তার বাস্তব প্রয়োগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেই শুরু করতে হবে।”