মোঃ শাহজাহান বাশার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হয়েছে। এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর আজ বুধবার প্রার্থীদের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ দেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রতীক বরাদ্দ শেষ হলেই আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে দেশজুড়ে শুরু হবে প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা।
নির্বাচন কমিশনের জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনের পরবর্তী দিন অর্থাৎ ২১ জানুয়ারি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন করে তাদের নামের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করার নির্দেশনা রয়েছে। সে অনুযায়ী আজ সারাদেশের রিটার্নিং কর্মকর্তাদের মাধ্যমে এ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, প্রতীক বরাদ্দের সময় প্রার্থীদের নামের তালিকা বাংলা বর্ণানুক্রমে সাজিয়ে চূড়ান্ত করা হবে। দলীয় প্রতীকের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্যও নির্ধারিত প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে বিধিমালা অনুযায়ী।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে, যা পৃথক ব্যালটের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।
ইসি জানায়, এবারের নির্বাচনে এখন পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি প্রার্থী বৈধ হিসেবে চূড়ান্ত তালিকায় রয়েছেন। স্বচ্ছ ব্যালট পেপারের মাধ্যমে অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে দেশের প্রায় ১২ কোটি ৭৭ লাখ ভোটার তাদের সাংবিধানিক ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচনী মাঠে প্রতিযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পোস্টার, লিফলেট, পথসভা, গণসংযোগ ও বিভিন্ন নির্বাচনী সভার মধ্য দিয়ে প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে নিজেদের অবস্থান ও প্রতিশ্রুতি তুলে ধরবেন।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে কঠোর নজরদারি থাকবে এবং অনিয়মের অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে ধারণা করা হচ্ছে, প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা আরও গতিশীল রূপ নেবে।